শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

চট্টগ্রামে চালক সজিব হত্যায় ৩ জনের ফাঁসির রায়

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 17 আগস্ট 2026, 01:06 দুপুর • 71 বার পঠিত
চট্টগ্রামে চালক সজিব হত্যায় ৩ জনের ফাঁসির রায়

চট্টগ্রামের নগরীর টোল রোড এলাকায় গাড়িচালক সজিব হত্যা মামলায় তিনজনের ‍মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার এ রায় ঘোসণা করেন চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবীদ্বারের শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার নুরুল আলম টুটুল।

দণ্ডিতদের মধ্যে নুরুল আলম টুটুল রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুজন পলাতক।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

ডটকমকে বলেন, “হত্যা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।”

২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানার টোল রোডের পূর্ব পাশ থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে লাশটি নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা গাড়িচালক সজিবের বলে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সজিবের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন রবিউল বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন।

ঘটনার সময় গাড়ি চালক সজিবের বয়স ছিল ২৭ বছর। তিনি নোয়াখালীর চাটখিল থানার আব্দুল হক স্বপনের ছেলে। তিনি পণ্যবাহী গাড়ি চালাতেন।

২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৭ অক্টোবর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি নুরুল আমিনের সঙ্গে ২০১৪ সালে এক পোশাক শ্রমিকের বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে ওই নারীর সঙ্গে সজিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি জানতে পেরে নুরুল আমিন একাধিকবার সজিবকে আটকে মারধর করেন। এরপর নুরুল আমিনের সঙ্গে ওই নারীর বিচ্ছেদ হয়। এতে নুরুল আরো ক্ষিপ্ত হন।

ওই নারীকে আবার বিয়ের উদ্দেশ্যে নুরুল আমিন হবিগঞ্জ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে আসেন। বিয়ের আগে সজিবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নুরুল আমিন। এ বিষয়ে তিনি আরেক আসামি শাহজাহানের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে সজিবকে ডেকে আনেন আসামি নুরুল আমিন, শাহাজান ও নুরুল আলম টুটুল। পরে ঘটনাস্থলের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাথায় ও পেটে আঘাত করে, অণ্ডকোষ চেপে এবং গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।

পরে তারা সেখানেই লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এ মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেন।

২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার রায় দেওয়া হল।