চবিতে ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধ, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মূল ফটকে এখন তালা ঝুলছে। ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। তাদের অবরোধের চবির ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। সব যান চলাচল বন্ধ আছে। বন্ধ আছে শাটল ট্রেনও। শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমস্যা চলছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাদের কারণে। গতকাল রোববার রাতে চবি চবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরই চবিতে উত্তেজনা দেখা দেয়। তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এই রাতে রাতেই অবরোধ, ভাঙচুর শুরু হয়।
রোববার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৬৯ জন সহসভাপতি, ১২ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে।
২০১৯ সালের ১৫ জুলাই চবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তখন সভাপতি করা হয় রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় ইকবাল হোসেন টিপুকে।
চবির ছাত্রলীগের একাংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ ইলিয়াসকে নিয়ে আপত্তি। তারা ইলিয়াসের বহিষ্কার চান। এছাড়া তারা নতুন নতুন শাখা কমিটিও চান।
চবির শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ বিজয়ের একাংশের নেতা-কর্মীরা এসব দাবিতে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্যাম্পাস অবরোধ করে রাখবেন।
রাত দেড়টার দিকে তারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হলের অন্তত ৪০টি কক্ষ ভাঙচুর করার অভিযোগ আছে। শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক সাহিল কবির মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
এদিন অবরোধের কারণে ক্যাম্পাস থেকে নগরীর উদ্দেশ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনও আটকে দেওয়া হয়েছে। এই শাটল ট্রেনে দৈনিক ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। অভিযোগ আছে, আজ শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়েছে।