চাঁদাবাজ চক্রের কবলে মিরপুর ফুটপাতের হকাররা
মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে ফুটপাতের দোকানদাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হকারদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের মার্কেটের সভাপতি আগা খান মিন্টুর ছত্রছায়ায় মার্কেটের ম্যানেজার খোকন লাইনম্যান আজমসহ আরো কয়েকজনকে দিয়ে মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এ চাঁদাবাজি চলছে।
চাঁদা না দেয়ায় লাইনম্যান আজমের ছেলে সজিব গত কয়েকদিন আগে মদ খেয়ে প্রকাশ্যে মাতলামি করে ফুটপাতে মারামারির ঘটনা ঘটায় বলেও জানান তারা।
ফুটপাতের হকারদের অভিযোগ, চাঁদার টাকা না দিলে প্রায়ই ফুটপাতে মারামারির ঘটনা ঘটায় সজিব। এক দোকানের জায়গা কয়েক জনের কাছে বিক্রি করে। যে বেশি টাকা দেয় তাকে দোকান বুঝে দেয়ার জন্য মদ খেয়ে মাতলামি করে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, মিরপুর- ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল থেকে শুরু শাহ আলি মাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশ জুড়ে জমজমাটভাবে চলছে ফুটপাত দখল করে হকারদের দোকান। এতে চরম যানজট ও দুর্ভোগে শিকার হন পথচারীরা। এখানে দোকান আছে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বচ্চো ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিলা কলেজের গেট থেকে শুরু করে ডাস্টবিন পর্যন্ত ফুটপাতে চাঁদা তোলেন লাইনম্যান সুরুজ, সিটি কর্পোরেশন মার্কেট থেকে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে থেকে লাইনম্যান নয়নের সহযোগী ও রুবেল, কেয়ার প্লাজার সামনে জাকির, ছিন্নমূল মার্কেটের সামনে ফারুক, মা প্লাজা মার্কেটের সামনে এনামুল, বাগদাদ মার্কেটের সামনে আনোয়ার, গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে রবিউল ও তার সহযোগী পল্টন মিয়া, মুক্তবাংলা মার্কেটের সামনে আবুল কালাম ও তার সহযোগী সেলিম, ক্যাপিটাল টাওয়ার মার্কেটের সামনে আকবর, মুক্তি প্লাজা মার্কেটের সামনে নূরু, হক প্লাজা মার্কেটের সামনে শাহ আলম, কো-অপারেটিভ মার্কেটের সামনে ধলা মীয়া, শাহ আলী কম্পেলক্স মার্কেটের সামনে হান্নান ও মুক্তিযুদ্ধ মার্কেটের সামনে আজম মিয়া চাঁদা তোলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন মোল্লা বলেন, আমি সব সময় ফুটপাত মুক্ত করার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আর এর জন্য যত সহযোগিতা লাগে আমি করবো।
তিনি বলেন, আমাদের সভাপতি আগা খান মিন্টু দুর্বল। উনি যদি আমাকে সহযোগিতা করতো তাহলে আমি আরো আগেই এ উচ্ছেদ অভিযান সফল করতাম।