শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি, ফিরলেন লাশ হয়ে

ওএনপি২৪ নিউজ ডেস্ক • 29 এপ্রিল 2025, 06:54 বিকাল • 439 বার পঠিত
বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি, ফিরলেন লাশ হয়ে

প্রায় সাত বছর আগে জীবনের চাকা ঘুরাতে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (৪৫)। পরিবারকে সচ্ছলতার পথে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল—ঋণ শোধ করে স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটাবেন। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কথা ছিল, আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন হলো না জীবিত অবস্থায়, ফিরলেন কফিনে বন্দি হয়ে।

গত শনিবার রাত ৪টার দিকে মালদ্বীপের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জসিম। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

জসিম উদ্দিন বড় ডালিমা গ্রামের মো. আলাউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজ। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন তিনি। ছেলে মেহনাব হোসেন এ বছর দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে, আর মেয়ে মোছা. জেরিন পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে।

জসিমের ছোট ভাই মো. মাহফুজ জানান, ২০০৫ সালে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান জসিম। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে মুরগির খামার শুরু করেন, কিন্তু লোকসানে পড়ে প্রবাসজীবনের সঞ্চয় হারান এবং ঋণে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে কুলহুধুফুশি দ্বীপে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২৫ এপ্রিল শুক্রবার বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন বাসায় ফিরে গেলেও, পরদিন রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বড় ভাই ও মেয়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বড় ডালিমা গ্রামের আকাশ-বাতাস। স্ত্রী মাসুমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিল মালদ্বীপে, লাশ হয়ে ফিরবে—এইটা কেমনে মেনে নেই! দুই সন্তানকে কী বলব আমি?’ মেয়েটি বলছিল, ‘বুঝ হওয়ার পর কখনো বাবাকে সামনে থেকে দেখিনি। শুধু ভিডিও কলে দেখতাম। এবার ঈদে বাবাকে জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন ছিল, তাও আর হলো না।’

নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান ফোরকান জানান, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১১টার দিকে জসিমের মরদেহ মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে এবং রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। আগামীকাল বুধবার পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।