শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বর্জ্য থেকে সম্পদ, উৎপাদিত হচ্ছে সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 07 ডিসেম্বর 2020, 12:30 রাত • 302 বার পঠিত
বর্জ্য থেকে সম্পদ, উৎপাদিত হচ্ছে সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ

ময়লা-আবর্জনা যখন শহরবাসীর ভোগান্তির কারণ তখন ছোট্ট একটি উদ্যোগ বদলে দিয়েছে শহরের পরিস্থিতি। বর্জ্য থেকে সার ও বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প স্থাপিত হয়েছে যশোর পৌরসভার হামিদপুরের এলাকায়।

দৈনন্দিন জীবনে বাসাবাড়ির বর্জ্য তা যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে আনছে পৌরসভা। আর তার মধ্যে পচনশীল বর্জ্যকে আলাদা করে তা থেকে তৈরি করা হচ্ছে কম্পোস্ট সার। যা বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের কাছে।

প্রতিদিন প্রায় ৪৫ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌরসভা। প্রায় ১৮ টন বর্জ্য ব্যবহার করে উৎপাদন করা হচ্ছে ৭২০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস। যার অর্ধেক ব্যবহার করে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি ঘন্টায় ৪২৮ কিউবিক বিদ্যুৎ। আর সেই বিদ্যুৎ দিয়েই চলছে পুরো প্রকল্পের কাজ।

এমন উদ্যোগ বদলে দিয়েছে পুরো শহরকে। সমস্যাকে কিভাবে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা যায় তা দেখিয়ে দিলো যশোর পৌরসভা। শহরের প্রতেকটি এলকা ও রাস্তাঘাটই এর প্রমাণ। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে মডেলে পরিণত হয়েছে যশোর পৌরসভা।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প স্থাপিত হয়েছে। এডিবির প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য থেকেই উৎপাদন হচ্ছে সার ও বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ।

পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেয়া এমন উদ্যোগ সফল হলে বড় শহরগুলোতেও করার আশ্বাস দেন এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর। তিনি বলেন, একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে, অপরদিকে বাড়ছে আয় এবং ভোগব্যয়। যদি আবর্জনাকে এখনই সঠিক ব্যবস্থাপনায় না আনা যায় তবে এ সমস্যা অনেক বড় আকার ধারণ করবে। যদি যশোরের প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনে তবে বড় শহরগুলোতেও এমন প্রকল্প হাতে নিবে এডিবি।

যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে সম্পদ তৈরির কাজ এখানে সারাদেশের মধ্যে প্রথম শুরু হয়েছে। বহু বছরের ময়লার স্তুপ সরিয়ে জায়গাটিকে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদ তৈরির জায়গায় পরিণত করা সম্ভবপর হয়েছে। অন্য জেলার জন্য এটি একটি রোল মডেল হতে পারেন বলে জানান তিনি।

প্রকল্পের এলাকায় নষ্ট হতে বসা পরিবেশ আজ একেবারেই পাল্টে গেছে। বাংলাদেশে প্রথম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প স্থাপন হওয়ায় পর জায়গাটি দর্শনীয় স্থানেও রূপান্তরিত হয়েছে।