শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 26 আগস্ট 2026, 12:52 দুপুর • 67 বার পঠিত
বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই।

পাশাপাশি এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআইর দেওয়া লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার বিএসটিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়।

নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কিনতেও ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলা মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায়, তা অকৃতকার্য হয়।

পরীক্ষায় বিএসটিআই দেখেছে, বাঘাবাড়ির ঘিতে মিল্কফ্যাট থাকার কথা থাকলেও সেটি নেই। এর পরিবির্তে পাম অলিন (পাম ফলের শাঁস থেকে উৎপাদিত পাম অয়েলের একটি তরল অংশ), বনস্পতি (উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি এক ধরনের কৃত্রিম ঘি বা ডালডা) দিয়ে তৈরি করে ঘি নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষার বিএসটিআই দেখতে পেয়েছে, বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলায় নির্ধারিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস) চেয়ে বেশি মাত্রায় লবণ রয়েছে।

বিডিএস মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির বাঘাবাড়ি ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ঘি, ‘সিটি’ ঘি, এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স বাটার অয়েল’ ঘি।

বিএসটিআই বলছে, ল্যাব পরীক্ষায় এসব পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, “জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে কঠোর নজরদারি চলছে।”

পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা ১৬১১৯ নম্বরে বা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতেও অনুরোধ করেন তিনি।