বল প্রয়োগ করে অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিচ্ছি গ্রীস
গত সোমবার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শেষ দিকে অভিবাসীরা গ্রীসের লেসবস দ্বীপে পৌঁছার পর, দেশটির কর্তৃপক্ষ জোর করে তাদের দেশটির সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিয়েছে।
তুরস্ক থেকে নৌকায় করে গ্রীসের দ্বীপে পৌঁছানো একদল অভিবাসী এবং শরনার্থীকে গ্রীস নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে এবং গ্রীস ভূখণ্ডে পৌঁছার পরেও তাদেরকে জোর করে তুরস্কের সমুদ্র সীমানায় পাঠিয়ে দেয় বলে অভিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর জিনছি কিমবেগনা ও(১৬ বছর বয়স্ক)একদল শরনার্থীর সাথে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করছিলেন। এটা তার তৃতীয়বারের চেষ্টা ছিল। কিন্তু, গত দুইবারের মত গ্রীস কর্তৃপক্ষ তাকে বেআইনীভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেয়।
কিমবেগনা তার তৃতীয়বার ইউরোপে প্রবেশের প্রচেষ্টার কিছু অংশ নথিভুক্ত করেছেন, যাতে তিনি স্বাধীন চলাচল ও শরনার্থীদের অধিকার অস্বীকারকারী গ্রীক সেনাবাহিনীর বেআইনী কর্মকাণ্ড গুলোকে প্রমান করতে পারেন ।
যখন কিমবেগনা এবং তার সাথের অভিবাসীরা লেসবস দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব লোকালয় ক্রাটিগোসে পৌঁছেন তখন তিনি ওই এলাকায় তার অবস্থান ও সে সম্পর্কিত ছবিগুলো নরওয়ের এজিয়ান সাগরের নৌ-যান সম্পর্কিত সুশীল সমাজের প্রতিবেদনে প্রেরণ করেন। এ সংস্থাটি এ অঞ্চলে অভিবাসীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কিমবেগনা এটা প্রমাণ করতে চান যে ইউ্ররোপে তিনি পৌঁছে ছিলেন।
ওই দলটি দ্বীপটিতে পৌছার পর তারা কোটাস থিউডোরুর নামে এক শিক্ষকের কাছে যান। ওই শিখক ওই দ্বীপেই বাস করতেন। থিউডোরুর বলেছিলেন, ওই দলটিতে দুজন গর্ভবতী নারী আছেন তারা কোন হসপিটাল অথবা শরনার্থী শিবিরে যেতে চাচ্ছিলেন।
যখন থিউডোরু ফোনের মাধ্যমে পুলিশের সাহায্য চাওয়ার কথা বলেন তখন মহিলারা পুলিশের ভয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করেন।
এরপর যখন অভিবাসী ও শরনার্থীরা তাদের যাত্রা পথে চলছিলেন তারা তাদের জিপিএস অবস্থানের খবর এবং ফটো এজিয়ান নৌ-যান প্রতিবেদন প্রেরণ করেন । অবশেষে, গ্রীস কোস্ট গার্ড (উপকূল রক্ষী) কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং বলেন তারা শরনার্থী শিবিরে স্থানান্তরিত হবেন কোভিড-১৯ পরীক্ষার কোয়ারিন্টিনের জন্য। এরপর তাদেরকে বাসে তুলে দেয়া হয়। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর তাদেরকে বাস থেকে নামানো হয় এবং কিছু মাস্ক পরা লোকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
কিমবেগনা বলেন, তাদের ফোনগুলো ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং তাদের ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে বাধা দেয়া হয়। তাদেরকে পিটানো হয় এবং নৌকায় তুলে দেয়া হয়। নৌকাগুলো তাদেরকে তুরস্কের পানি/সমুদ্র সীমানায় নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, ওইদিন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অভিবাসী দল ওই দ্বীপে পৌঁছেছিল। কিন্তু দুটো দলকে ফেরত পাঠানো হয়। অবশেষে দুটো দলের নৌকাগুলো তুরস্কের উপকূল রক্ষীরা তাদের পানি সীমানা থেকে উদ্ধার করে।
কিমবেগনা এখন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বাস করেন। তিনি আবারো ইউরোপে যাবার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।
পুশব্যাককে (অন্য দেশের সীমান্তের ভিতর পাঠিয়ে দেয়া) আন্তর্জাতিক শরনার্থী রক্ষা চুক্তির বিরোধী বলে মনে করা হয়। চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, দেশ,জাতি, ধর্মীয় কারণে অথবা কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের সদস্য হবার কারনে কোন মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে তাদেরকে কোন দেশ থেকে বহিস্কার বা ফেরত পাঠানো যাবে না।
যুদ্ধ এবং অত্যাচার থেকে বেঁচে নতুন জীবন শুরু করতে শরনার্থীদের ইউরোপ যাত্রায় তুরস্ক এবং গ্রীস হলো মূল পথ। তুরস্ক গ্রীসকে কোন ধরনের আশ্রায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে না গিয়ে ব্যাপকভাবে শরনার্থীদের পুশব্যাক ও নির্বাসন দেয়ার নিন্দা করেছে। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়। আঙ্কারা একই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেছে এমন মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনে চুপ থাকার জন্য।
গত শনিবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোইলু অবৈধভাবে ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্রতি গ্রীসের কোস্ট গার্ডদের খারাপ আচরণের নিন্দা করেন।
টুইটার পোস্টে তিনি গ্রীস অভিবাসী ও আশ্রায়ন মন্ত্রী নোটিস মিটারাসিকে উদে্দশ্য করে একটি ভিডিও শেয়ার করেন যেখানে দেখা গেছে গ্রীক কোস্ট গার্ড দুটি নৌকাকে বাধ্য করছে অভিবাসীদের বহন করে তুরস্কের সমুদ্র সীমানায় নিয়ে যেতে।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে গ্রীস কর্তৃপক্ষ কিছু অভিবাসীকে মারছে । ওই ভিডিও প্রতি ইঙ্গিত করে সোইলু বলেন, তোমার কোস্ট গার্ড নির্যাতন এবং অমানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সোইলু এসব অমানবিক কাজ ও তুকী সীমান্তে ‘পুশ ব্যাকের জন্য’ জন্য গ্রীক কোস্ট গার্ডকে দায়ী করছেন। তিনি একই সাথে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্ট টেক্সকেও এসব খারাপ কাজের সহায়তাকারী হিসাবে দায়ী করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন ইরোপীয় ইউনিয়ন এসব বিষয় উপেক্ষা করছে। ২৮এপ্রিল থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত এমন ছয়টি ঘটনায় ফ্রন্টটেক্স দায়ী বলে অভিযোগ আছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও বলছে, প্রায় ৩০০টি পুশব্যাকে ঘটনায় গ্রীস নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত ।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ