শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন নিয়ে জাতীয় সেমিনারের ঘোষণাপএ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 11 মে 2026, 05:12 বিকাল • 93 বার পঠিত
বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন নিয়ে জাতীয় সেমিনারের ঘোষণাপএ

গত শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আই, এ, বি) মিলনায়তনে ‘বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরয়ি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছে দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ। এতে দেশের প্রখ্যাত আলেম, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদরা অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব, মাওলানা মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন। সেমিনার শেষে একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়, যা নিম্নে তুলে ধরা হলো :

১. ইসলামী শরিয়তে চান্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল (নবচন্দ্র) দেখা, হেলালের সাক্ষ্য। অন্যথায় মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা। এ মানদণ্ড বাদ দিয়ে কনজাঙ্কশন/অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা ইসলামী শরিয়ত পরিবর্তন এবং নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক নতুন শরিয়ত প্রবর্তন করার শামিল।

এমনিভাবে চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞান-ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরি ক্যালেন্ডারের নামে বিভিন্ন লুনার ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ ও ইসলামী শরিয়তে হস্তক্ষেপের শামিল।

২. মুসলমানদের ঈদ অন্য জাতিগোষ্ঠীর উত্সবের মতো নিছক আনন্দ-উত্সব নয়; বরং ঈদ হচ্ছে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যান্য জাতির উত্সবের আদলে উদ্যাপন করার চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক।

৩. একই তারিখে সারা বিশ্বে রোজা ও ঈদ পালনকে জরুরি মনে করা একেবারেই দলিলহীন দাবি এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব। নবসৃষ্ট এ মতবাদ কিন্তু ‘লা ইবরাতা লি-ইখতিলাফির মাতালি’ শীর্ষক ফিকহি অভিমতের সমার্থক নয়।

৪. সর্বপ্রথম হেলাল (নতুন চাঁদ) দেখাকে একমাত্র ভিত্তি গণ্য করা এবং এটিকে পুরো বিশ্বের জন্য গ্রহণ করাকে ফরজ মনে করা দলিলবিহীন এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থী। সাথে সাথে তা বাস্তবিকপক্ষে পুরো বিশ্বের জন্য আমলযোগ্যও নয়। তাই এমন একটি মত দেশ ও জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

৫. মক্কার হেলাল (চাঁদ) দেখাকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া কেবল দলিলহীনই নয়; বরং নবীযুগ, খোলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবা যুগ এবং তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের যুগসহ উম্মতে মুসলিমার নীতি ও কর্মপরম্পরার গোটা ধারারই বিরোধী। নির্ধারিত করে অন্য কোনো শহরকেও ভিত্তি বানানো যায় না। কারণ, নিজ অঞ্চলে হেলাল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সে অনুযায়ী আমল না করে অন্য অঞ্চলের হেলালের অপেক্ষা করা সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামী পরিপন্থী।

৬. এটা একেবারেই গলদ কথা যে ওলামায়ে কেরাম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে এক মনে করার কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের বিরোধিতা করেন। এমনটি নয়; বরং তারা শরয়ি প্রমাণাদির কারণেই এ বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবকে ভিত্তি মনে করেন না। স্বয়ং মুসলিম মনীষী জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বিশ্বব্যাপী ইবাদত ও আহকামের ক্ষেত্রে একে ভিত্তি মনে করেন না। কারণ তারা মনে করেন, এগুলো একান্তই দ্বিনি বিষয়। এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়; বরং ইসলামী শরিয়ত যা বলে তা-ই মেনে নেওয়া আমাদের ঈমানি কর্তব্য।

৭. ইসলামী শরিয়তের কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অথরিটি (ধর্তব্য) নয়। তথাপি শুধু অবগতির জন্য বলা হচ্ছে যে, বড় বড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও পুরো বিশ্বে একই দিনে রোজা-ঈদ পালন করার প্রবক্তা নন।

৮. যে পদ্ধতি এতদঞ্চলে আগে থেকেই চলে আসছে, যে ব্যাপারে দেশের অধিকাংশ ওলামা-মাশায়েখ একমত, সেটার পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কার্যকারণ উপস্থিত নেই। তাছাড়া অনুসৃত ধারার ওপর বহাল থাকাতেই রয়েছে মঙ্গল।

৯. একে তো অনুসৃত পদ্ধতিকে বদলানোর কোনো বৈধ কারণ নেই। দ্বিতীয়ত, এর পরিবর্তনের ফলে দেশের মধ্যে ভীষণ বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। কারণ, দেশের সর্বত্র যেসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও তাদের অনুসারীরা রয়েছেন, তারা দলিলবিহীন কোনো নতুন কিছু কখনোই মেনে নেবেন না।

১০. দেশের কোনো আইন বা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তে যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকে, তবে তা মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় হেলাল (চাঁদ দেখা) কমিটি রোজা, ঈদসহ সকল চান্দ্রমাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় কমিটি। তাই এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া মুসলিমদের কর্তব্য।