শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
খেলা

বিশ্ব জয়ে স্পেনজুড়ে উৎসব, বাঁধভাঙা উল্লাস ইয়ামালের জন্মস্থান রোকাফোন্দায়

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 20 জুলাই 2026, 07:56 সকাল • 66 বার পঠিত
বিশ্ব জয়ে স্পেনজুড়ে উৎসব, বাঁধভাঙা উল্লাস ইয়ামালের জন্মস্থান রোকাফোন্দায়

কেউ গায়ে জড়িয়েছেন জাতীয় পতাকা, কেউ আবার হাতে উড়িয়ে বেড়াচ্ছেন সেটি। অনেকের গায়ে জাতীয় দলের জার্সি। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে এমন উৎসবই তো স্বাভাবিক। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর পুরো স্পেনজুড়ে বইছে উল্লাসের ঢেউ। আর দলটির তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের শৈশব কেটেছে যেখানে, সেই রোকাফোন্দা যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের একটি কেন্দ্রে।

নিউ ইয়র্কে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ১-০ গোলে জিতে উল্লাসে মেতেছে স্প্যানিশরা। ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেছেন ফেররান তরেস।

২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতা স্পেন, ১৬ বছর পর আবারও হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

বিশ্বকাপ জুড়েই দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন ইয়ামাল। দুই বছর আগে ইউরো জেতা স্প্যানিশ সেনসেশন এবার পেয়ে গেলেন বিশ্ব জয়ের স্বাদও! তাতে সবচেয়ে বেশি খুশি যেন তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার জনপদ রোকাফোন্দা।

বার্সেলোনা থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে মাতারোয়ের উপকূলীয় শহর রোকাফোন্দা। যেখানে বসবাস করেন শ্রমজীবী ও বহু-সংস্কৃতির মানুষ। যাদেরকে চেনা হয় ‘৩০৪’ সংখ্যাটা দিয়ে। এটা শুধুই একটা সংখ্যা নয়, এটা রোকাফোন্দার পোস্টাল কোড। যার পুরোটা ০৮৩০৪।

বিস্মিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এটাও তো সত্যি, কখনও কখনও মানুষের নাম থাকে না; পরিচয়পত্র হয়ে ওঠে সংখ্যা, যেমন ক্রীতদাস, কিংবা কয়েদী নম্বর। হরহামেশাই মানুষ যেমন নাক সিঁটকে বলে ‘অমুক অঞ্চলের লোক’, বিষয়টা যে তেমনি। ইয়ামালও সেই গোত্রের, যাদের সে অর্থে নাম নেই কিংবা নামহীন; অঞ্চল দিয়ে চেনা হয় যাদের!


এখন অবশ্য গল্পটা বদলেছে অনেক। বলা ভালো, বদলে দিয়েছেন ইয়ামাল। স্পেনের হতদরিদ্র জনপদ রোকাফোন্দাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন তিনি। স্পেনের যে অঞ্চলে বেড়ে ওঠার পরিচয় দিতে মানুষ কুণ্ঠাবোধ করে, আড়ষ্ট থাকে। সেটাকেই সবার সামনে উঁচিয়ে ধরছেন এই ফরোয়ার্ড।

মরক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের ঘরে স্পেনে জন্ম নেওয়া ইয়ামাল নিজের পরিচয়ের প্রতি সবসময়ই গর্ব প্রকাশ করেছেন। গোল করার পর তার বিখ্যাত ‘৩০৪’ আঙুলের ইশারা সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। এবারের বিশ্বকাপেই যেমন, রোকাফোন্দা লেখা একটি হেডব্যান্ড পরেছেন ইয়ামাল। বুটে ধারণ করেছেন বাবা-মায়ের জন্মভূমির পতাকা এবং বারবার বলেছেন, ফুটবল বর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার একাডেমি লা মাজিয়ায় যোগ দেন ইয়ামাল। এখন তিনি কাতালান ক্লাবটি তো বটেই, স্পেনেরই সবচেয়ে বড় তারকা। তিনি যেমন শেকড় কখনো ভোলেন না, রোকাফোন্দার মানুষও তাকে নিজেদেরই একজন মনে করে এখনও।

যে কমিউনিটির মাঠে ছোটবেলায় নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন ইয়ামাল, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে তার বিশাল দেয়ালচিত্র। স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং স্বপ্নপূরণের প্রতীক।

স্পেনের জয় রোকাফোন্দায় বয়ে যাচ্ছেন আনন্দের জোয়ার। বিশেষ করে, ইয়ামালকে ঘিরেই তাদের উল্লাসটা বেশি। তাদেরকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে যাচ্ছেন যে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ।

শুধু রোকাফোন্দায় নয়, রাজধানী মাদ্রিদেও নেমে আসে উৎসবের ঢেউ। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। স্পেনজুড়ে শুরু হয় আনন্দের বিস্ফোরণ। শহর থেকে শহরে- সবখানেই দেখা যায় বিজয়োৎসবের রঙিন দৃশ্য। লাল-সোনালি পতাকায় মোড়া সমর্থকেরা নেচে-গানে মাতিয়ে রাখেন চারপাশ। একসঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেন“চ্যাম্পিয়ন! চ্যাম্পিয়ন!”

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমরাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! আমাদের জাতীয় দল ছিল দুর্দান্ত। ধন্যবাদ, স্পেন!”

বার্সেলোনাতেও ছিল একই উন্মাদনা। ইয়ামালসহ এবারের বিশ্বকাপে স্পেন দলের অনেক খেলোয়াড়ই এই ক্লাবটির। শহরটিতে আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে রাতের আকাশ। সৈকতগুলোতে শুরু হয় উদযাপন, আনন্দমুখর রাত কাটে সবার।

তবে উৎসবের মধ্যেও একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বিলবাওয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, বড় পর্দায় ম্যাচ সম্প্রচার ব্যাহত করার চেষ্টা করা পাঁচজনকে তারা শনাক্ত করেছে।