বিকেলে থেকে পাটুরিয়ায় বেড়েছে চাপ
ঈদের ছুটির প্রথম দিনে আজ শুক্রবার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের ওপর বেশ চাপ পড়েছে। ঘরে ফেরা মানুষকে নিয়ে যানবাহনের চাপ বাড়ায় এই ঘাটে যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঘরে ফিরতে পাটুরিয়া ঘাট পার হতে হয়। ২১টি জেলার মানুষ এই পথে ঈদ করতে নিজের নিজের ঘরে ফেরেন। গাবতলী থেকে এই পথে যাত্রী এখনো আগের ঈদগুলোর তুলনায় কম। তা অনেক মানুষ আগে ফিরেছেন, আরো ফিরবেন আগামিকাল থেকে বলেই।
আজ সকালের দিকে তেমন চাপ ছিল না পাটুরিয়া ঘাটের ওপর। কিন্তু দিন বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে চোপ বাড়তে থাকে। যানবাহন বেড়েছে। বেড়েছে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাওয়া মানুষের সংখ্যাও। দুপুরের দিকে মাঝারি চাপ ছিল। বিকেলের দিকে সেই চাপ অনেক বাড়ে। ফেরিতে একাধারে মানুষ ও যানবাহনের চাপ পড়ে।
ঘুরে দেখা গেছে, এদিন বিকেলেও যাত্রীবাহী দূরপাল্লার গাড়ির চাপ অনেকাংশে কম ছিল। তুলনায় ছোট গাড়ি আগের দিনের মতো ছিল অনেক বেশি। আর ছিল বিভিন্ন মাধ্যমে ঘাট অব্দি যাওয়া মানুষ। প্রচুর মানুষ নদী পার হতে লঞ্চ বেছে নিয়েছেন।
এর মধ্যেও চাপ তৈরি হয়। কারণ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আজ থেকে ছুটি। সকাল থেকেই তাই পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ ঘরমুখো হয়েছেন। গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে যাওয়া চাই। দুপুর তিনটার পর থেকে তাই পাটুরিয়ার সড়কে যানবাহনের সারি তৈরি হয়।
বিকেলের দিকে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ছেড়ে যাত্রীবাহী বাস
পাটুরিয়া-উথলী সংযোগ সড়কের নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে সারি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ধীরে। প্রচণ্ড গরম। এই অবস্থায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট ছিল বেশি।
পাটুরিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে যাত্রীবাহী বাসের চাপ ছিল স্বাভাবিক। দুপুরের পর থেকে যাত্রীবাহী বাস আসতে শুরু করলে বিকেল চারটার দিকে এই চাপ বেড়ে যায়। এ সময় সড়কে দুই শতাধিক যাত্রীবাহী বাস দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়ে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ বিকেলে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বড়-ছোট মিলিয়ে ২০টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।