শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ৫২৫ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 28 ফেব্রুয়ারি 2025, 04:22 দুপুর • 230 বার পঠিত
বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ৫২৫ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি লে-অফ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে সরকার ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এই অর্থ পরে বেক্সিমকো গ্রুপকে ফেরত দিতে হবে। পাওনাদারদের মধ্যে ৩১,৬৭৯ জন শ্রমিক এবং ১,৫৬৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। আগামী ৯ মার্চ থেকে রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই পাওনা পরিশোধ করা হবে।

বৃহস্পতিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

এছাড়া, আজ শুক্রবার থেকে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শ্রম আইন মেনে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির কর্মকর্তাদেরও দায় আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান শ্রম উপদেষ্টা।

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন লুৎফে সিদ্দিকী, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত। কমিটিতে আরও থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং বেক্সিমকোতে নিযুক্ত রিসিভার।

সরকার পরিবর্তনের পর, ৫ আগস্ট বেক্সিমকোর অন্যতম কর্ণধার সালমান এফ রহমান কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। পরে, ২৯ আগস্ট তাঁর ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে বেক্সিমকোর শেয়ার বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেয়ার বিক্রিতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকারী তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমরা কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে না। কোনো শ্রমিকের চাকরি চলে যাক, তা আমরা চাই না। কারণ, তাঁদেরও পরিবার আছে।’’ বেক্সিমকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন কিছু করবেন না, যাতে সরকারকে কঠোর হতে হয়—এমন হুঁশিয়ারও করেন সাখাওয়াত হোসেন।