বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, এই মাসে ১২ দিনে মৃত্যু ৪১
যত দিন যাচ্ছে ততই আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই। চলতি মাসের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর দাড়িয়েছে সংখ্যা ৮ হাজার ১৬৫ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা ৪১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, ৩ জনের মৃত্যু হয়। ২ জুলাই ৫০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, এর মধ্যে ২ জন মারা যান। ৩ জুলাই ৪৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৪ জন। ৪ জুলাই ৬৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন , মারা যান ৫ জন।
৫ জুলাই ৫৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ১ জন। ৬ জুলাই ৬৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ২ জন। ৭ জুলাই ১৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান এক জন। ৮ জুলাই ৮২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ২ জন। ৯ জুলাই ৮৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৬ জন। ১০ জুলাই ৮৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৩ জন। ১১ জুলাই ১০৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৭ জন এবং ১২ জুলাই ১২৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৫ জন।
গত জুন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৫৬ জন রোগী। মারা গেছেন ৩৪ জন। সে হিসেবে এই মাসের প্রথম ১২ দিনেই গত মাসের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন। এজন্য তিনি সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে-
তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরের পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, নাসিয়া গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া, শরীরে র্যাশ ওঠা, শরীরে লালচে দানা, পাতলা পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে বেশি বেশি তরল খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস, স্যুপ খেতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে বলা হয়েছে-
১.ঘর, অফিস বা কর্মস্থলের জানালা সবসময় বন্ধ রাখতে হবে।
২.মশার কামড় থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে রাখতে পারে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে।
৩. দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
৪. পরিবার, প্রতিবেশী সকলের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
৫. সবাই মিলে আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নত রাখতে হবে।
ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যেন আতঙ্ক না ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই জ্বর সেরে যায়। তবে মারাত্মক হতে পারে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর।