বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধের কারণ
আজ সোমবার থেকে সারদেশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকে করে সয়াবিন তেলসহ নিত্য পণ্য বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু আগের রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা বাদ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। কেন এই পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হল তা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
আজ সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকেও টিসিবির পণ্যের সুফল দিতে এই সিদ্ধান্ত। টিপু মুনশি বলেন, ‘১৬ তারিখ থেকে যেটা দিতে চেয়েছিলাম, সেটা কিন্তু এক কোটি মানুষকে নয়, ট্রাকে করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এমন শহরগুলোতে। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন, শহরের এই মানুষগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, গ্রামের মানুষকে তো দেওয়া হচ্ছে না। একটু সময় নিয়ে ঢাকাতে আমরা দেব এবং গ্রামেও দেব।’
টিসিবি নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য মূল্য সহনীয় রাখতে ডিলারদের মাধ্যমে ট্রাকে অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য বিক্রি করত। পরে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়।
কিছুদিন আগে টিসিবি জানায়, ১৬ মে থেকে আবার সারাদেশে সব মহানগরী, জেলা ও উপজেলায় ৩০০টি খোলা ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু হবে।
ট্রাক থেকে ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মসুর ডাল, ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল। এছাড়া গত মাসের অবশিষ্ট ছোলা ৫০ টাকা কেজি দরে ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিল টিসিবি।
কিন্তু রোববার রাতে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, বিক্রয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার নীতিগতভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য (ভোজ্য তেল, মসুর ডাল, চিনি) বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর কেবল ফ্যামিলি
কার্ডের মাধ্যমেই টিসিবির পণ্য সামগ্রীর বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। তাই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাসের ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত স্বল্প পরিসরে সাধারণ ট্রাকসেল কার্যক্রম স্থগিত করা হল। আগামী জুন মাসে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের নিকট টিসিবি কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (ভোজ্য তেল, মশুর ডাল, চিনি) বিক্রয় করা হবে।
টিপু মুনশি বলেন, ‘ঢাকায় ট্রাকে করে দেওয়া হয় ১৫ লাখ মানুষকে। বাকি ৮৫ লাখ দরিদ্রের কার্ড থাকে, তাদেরকে দেওয়া হয়। ইনস্ট্রাকশনটা এসেছে এবং আমরাও রি-অ্যারেন্জ করেছি। ৮৫ লাখ মানুষকে বাদ দিয়ে ১৫-১৬ লাখ মানুষকে দেওয়ার চেয়ে একটুখানি সময় নিয়ে…। এই ১৫ দিন আমরা পিছিয়ে গেছি, আসলে আরো বেশি অ্যাডভ্যান্স হওয়ার জন্য। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এক কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দিয়েছি দুইবার। আমাদের মাথায় আছে এক কোটি মানুষকে দেওয়া রেগুলার করব।’