বাংলাদেশকে একমাত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশকে আবারও একমাত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনে দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে সাংগঠনিক একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে।
আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ, ঢাকা কলেজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, “যে আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, সেই রক্তের দাম রাখতে হবে। শিশু থেকে শুরু করে অসংখ্য শিক্ষার্থী তখন বুক চিতিয়ে রাস্তায় নেমেছিল গণতন্ত্রের দাবিতে। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।”
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এখনো মিথ্যা মামলা ও দমননীতি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং চাকরিতে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, ন্যায়বিচারের অভাব ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রিজভীর অভিযোগ, “২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন ও ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’—সবই গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করেছে। শেখ হাসিনা গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর মিথ্যা মামলায় বন্দী রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বলা হলেও তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ব্যাংক খালি করে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এ ছাড়া বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নেতারা ও গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের স্বজনেরা অংশ নেন। এ সময় শহীদ পরিবারের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়।