বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্তে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্তে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থপাচারের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর জন্য যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং তার অধীনস্থ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ।
সম্প্রতি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদসহ তার সকল লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
এনসিএ’র একটি বিশেষজ্ঞ দল ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশ সফর করেছিল, যারা বড় দুর্নীতির তদন্তে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে। যদিও সংস্থাটি সরাসরি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে বিগত সরকারের সময়ে অর্থপাচারের ঘটনা অনুসন্ধান করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গুম-খুন, গণহত্যা এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে, দেশে থাকুন বা না থাকুন। তার পরিবার, সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও বিচারের আওতায় আসবেন।”
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনেছে। দুদকের তদন্তে জানা যায়, লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের নামে বেশ কয়েকটি সম্পত্তি রয়েছে, যা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি এবং তার মুখপাত্র এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
দুদক জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম করে নেওয়া প্লটের মামলায় টিউলিপের নাম এসেছে। এছাড়া, গাজীপুরের কানাইয়ায় তার একটি ব্যক্তিগত অবকাশযাপন কেন্দ্র এবং গুলশানের ‘সিদ্দিকস’ নামক বিলাসবহুল ভবনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, টিউলিপের সঙ্গে গুলশানের একটি সম্পত্তি ও ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাড়ির সংযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি ও তার পরিবারের এক সদস্য ২০১৫ সালে ঢাকায় ১ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছিলেন।
এদিকে, টিউলিপ সিদ্দিকের একজন মুখপাত্র স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন যে, দুদক এখনও তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি এবং তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এনসিএ বা আইএসিসিসি সরাসরি তদন্তে যুক্ত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে যুক্তরাজ্যের সংস্থাগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্নীতি দমনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উপায় খুঁজছে বলে জানা গেছে। ফলে, বাংলাদেশের দুর্নীতির মামলাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন মাত্রা পেতে পারে।