বাংলাদেশে আসার পথে প্রশিক্ষণ ‘মর্টার শেলবাহী’ উড়োজাহাজ গ্রিসে বিধ্বস্ত
সার্বিয়ার বানানো গোলাবারুদ নিয়ে একটি ইউক্রেনীয় উড়োজাহাজ আসছিল বাংলাদেশে। কিন্তু পথে গ্রিসের উত্তরের শহর কাভালার কাছে সেটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এই খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, ওই বিমানটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রশিক্ষণের জন্য কেনা মর্টার শেল ছিল। চালানটিতে কোনো অস্ত্র ছিল না।
সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নেবোসা স্টেফানোভিচ জানিয়েছেন, এই পণ্যের ক্রেতা ‘বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়’। তার কাছ থেকে জানা যায় যে ওই উড়োজাহাজে সার্বিয়ার তৈরি সাড়ে ১১ মেট্রিক টন সামরিক রসদ ছিল।
পরিবহন উড়োজাহাজটির নাম আন্তনভ-১২। সেটি বাংলাদেশে আসছিল বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টায় সেটির শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।
রয়টার্সের খবর থেকে জানা যায়, শনিবার সার্বিয়া থেকে উড্ডয়ন করে ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি। পথে ইঞ্জিনের সমস্যা হয়। পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
ড্রোনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, উড়োজাহাজটির চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
ওই উড়োজাহাজে থাকা আটজন ক্রু ছিলেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ওই আটজনের সবাই ইউক্রেনের নাগরিক।
সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সার্বিয়ার তৈরি সাড়ে ১১ টন অস্ত্র বাংলাদেশে নেওয়া হচ্ছিল। ঢাকায় পৌঁছানোর আগে ওই উড়োজাহাজটির জর্ডান, সৌদি আরব এবং ভারতে যাত্রাবিরতি করার কথা ছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেবোসা স্টেফানোভিচ আরো জানান, মর্টার শেল ও ট্রেইনিং শেল ছিল ওই উড়োজাহাজে। রসদ নিয়ে সার্বিয়ার শহর নিস থেকে উড্ডয়ন করেছিল সেটি।