শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই’: দীনেশ ত্রিবেদী

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 01 সেপ্টেম্বর 2026, 11:15 দুপুর • 79 বার পঠিত
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই’: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, যার ভিত্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও জনগণের কল্যাণ।

প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও।

তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই’, আটকে থাকলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ভালো হবে না, উন্নয়নের কাজ হবে না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ আশা ব্যক্ত করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে দীনেশ ত্রিবেদী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান।

একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন।

মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপড়েন তৈরি হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে বিএনপি সরকারকে ইতিবাচক বার্তা দেয় নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণর পর তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসের আউট রিচ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে দিল্লিতে সাবেক প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সচিবালয়ে বৈঠক শেষে বেরিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চাই পিপল টু পিপল রিলেশনশিপ; ওটা সব না থাকলে অন্য একই জিনিস। আপনাদের দিল্লিতে যে প্রতিনিধি আছেন, উনিও একই জিনিস চান যে, কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ভালো হয়। আলটিমেটলি কি হয়, আমরা যা ডিসিশন নিই, সেগুলোর প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর ভালোভাবে পড়ে, ওইটা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “আমরা তো সবসময় বলি যে আমরা একই স্বপ্ন শেয়ার করি, বর্ডার শেয়ার করি। তাই জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। প্রতিবেশী হিসেবে, আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর প্রতিবেশী হিসেবে আমি সবসময় বলি আমার সমান। কেউ কারো চেয়ে বড় আর কেউ ছোট নয়।”

দুই দেশেই নানারকম চ্যালেঞ্জ আছে তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আর চ্যালেঞ্জেস থাকবে। আমাকে অ্যাপ্রিশিয়েট, আমাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কি ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জ, এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কি চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

“কেননা যদি আমরা আটকে যাই, অতীত আমরা ভুলতে না পারি, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নাই। আটকে গেলে তাহলে উন্নয়নের কাজ হবে না “

তিনি বলেন, বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য নিয়েও কথা হয়েছে তাদের।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীনেশ ত্রিবেদী স্থানীয় সরকার খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভারতের আগ্রহের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “ভারতের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।”

বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।”

এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী এবং আলোচনা সাপেক্ষে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।”

বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, বলেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার তুলশীদাস বাড়ে উপস্থিত ছিলেন।