বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রায়
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার আট মাস পর তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন। আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনের এই সফরে তিনি চীনের হাইনান প্রদেশে ‘দ্য ব্যুরো ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে’ অংশ নেবেন এবং ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ঢাকা-বেইজিং এ সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে, যা বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বার্তা দিচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা।
বিশেষভাবে, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীন ইতোমধ্যেই পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সহায়তায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসার জন্য পাঠানো শুরু হয়েছে, এবং কুনমিংয়ে চারটি হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনের সহায়তায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। এ সফরের মাধ্যমে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টা চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং আমরা সেই বন্ধুত্বকে ধারণ করি। চীনের দিক থেকেও একই ধরনের মনোভাব আছে এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব সংহত করার বার্তা আমরা দিচ্ছি।’
এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। চীন থেকে ফিরে আসার পর ৩ এপ্রিল তিনি থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এ সফরে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নতুন সরকারের জন্য পথ তৈরি করবে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মনে করেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশকে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকায় সহযোগিতার বিষয়ে এগোতে হলে সেই বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে।