শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

আসিফ মাহমুদের সময়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি চাইল দুদক

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 03 সেপ্টেম্বর 2026, 12:56 দুপুর • 92 বার পঠিত
আসিফ মাহমুদের সময়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি চাইল দুদক

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বকালে এ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর মধ্যে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া, তা বাতিল ও বদলির নথিও চাওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে এসব নথি চেয়েছে দুদক।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অনুসন্ধান পর্যায়ে (রয়েছে)। অনুসন্ধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।”

অন্য তিনজন হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও নথি পাঠাতে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল দুদক।

পরে রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদককে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবারের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে দুদক কর্মকর্তা জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

যে নথির ভিত্তিতে দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকার সময় বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘চরম দুর্নীতি করেছেন’।

কয়েকজন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে সেখানে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শুরুতে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার কাছ থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান আসিফ মাহমুদ। ওই মাসের শেষ দিকে তিনি এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

এরপর থেকে তিনি দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

দুদকের নথিতে সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ ও মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি, অনিয়মের’ অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জোবায়েদ হোসেন ও মাসুম আহমেদকে ‘সেফ গার্ড দিয়ে বহাল তবিয়তে রাখার’ অভিযোগও সেখানে রয়েছে।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি হয়েছেন, তাদের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড চেয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের ভিত্তিতে করা বদলির নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও চাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- গোলাম মোস্তফা, মামুন, ঢাকার জাহিদ ও আমির, বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম, বরিশালের জুলহাস, পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ, ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেন।

এসব নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং সহায়ক রেকর্ডও চেয়েছে দুদক।

দুদকের আগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দমত জায়গায় পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।