শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ফিচার

আপনার সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ৭টি উপায়

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 12 জানুয়ারী 2021, 10:38 দুপুর • 712 বার পঠিত
আপনার সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ৭টি উপায়

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে একদিকে যেমন শিশুদের জন্য বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে, অন্যদিকে স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। ঘরবন্দী থাকার এই সময়টাতে অনেক শিশুই সময় কাটানোর উপায় হিসেবে ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে বাদ পড়েনি শিশুরাও। ফলে একটা দীর্ঘ সময় ইন্টারনেটে কাটাচ্ছে শিশুরা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ করতে বাবা-মাকে মূলত দুটি জিনিস নজরদারিতে রাখতে হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে যে, শিশুরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে কোনো ধরনের বিপদে পড়ছে কি না। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে তারা কোনো আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে কি না।

এ বিষয়ে অ্যাম্বার অ্যাট হোম-এর প্রধান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘সাইবার অ্যাবিউজ এখন খুব কমন ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এটি একটি হুমকির জায়গা। আরেকটি হচ্ছে অ্যাডিকশন। বাচ্চারা তখন ইন্টারনেট ছাড়া থাকতেই পারে না বা থাকতেই চায় না এমন আচরণ করে।’

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌলিক কিছু জিনিসে পরিবর্তন এনে একটু সচেতন হলেই শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা বা তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারি করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে-

১. প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন
শিশুদের যদি কোনো ডিভাইস দেয়া হয় তাহলে সেটিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাটাই নিরাপদ বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, গুগলে একটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম আছে। যা ব্যবহার করে শিশু কী দেখছে তার উপর নজরদারি করা সম্ভব। এ ব্যাপারে তিনি যে পরামর্শটি দিয়েছেন তা হলো- শিশুদের যে ডিভাইসটি দেয়া হলো তা চালু করতে হলে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস দরকার হয়। আর এটি যদি জি-মেইল হয় তাহলে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এটিকে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাকাউন্ট হিসেবে খোলা যায়।

শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি খোলার সময় তার জন্ম তারিখটি সংযুক্ত করার পর তা যদি ১৩ বছরের নিচে হয় তাহলে, গুগল আপনা-আপনিই বলবে যে, ওই অ্যাকাউন্টটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অধীনে হবে। আপনি করতে চান কি না।

এ ক্ষেত্রে জানতে চাওয়া হবে যে, ওই অ্যাকাউন্টটি অন্যকারো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ সেখানে যেকোনো একজন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট চাইবে। এখানে বাবা কিংবা মায়ের একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দেয়ার সুযোগ থাকে।

এরপর থেকে এই জি-মেইল অ্যাকাউন্ট পুরো ডিভাইসের অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা হবে তখন ওই অ্যাকাউন্ট দিয়ে শিশু কী কী খুঁজলো, কী কী অ্যাপ ইন্সটল করলো, ইউটিউব-ফেসবুকে কী দেখলো-সব কিছু তখন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে দেখা যাবে। এমনকি ওই ডিভাইসটি নিয়ে শিশু কোথায় গেলো ওই জায়গাটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘এখন ই-মেইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটি সার্ভিস আছে যে, প্যারেন্টসদের সাথে অ্যাকাউন্ট ট্যাগ করে দেয়া যায়। এ ক্ষেত্রে শিশু কাকে ই-মেইল পাঠাচ্ছে, কার সাথে কথা বলছে তাও দেখা যাবে।’

২. প্রয়োজনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ ইন্সটল করুন
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘প্যারেন্টাল সেফ ব্রাউজার একটি অ্যাপ আছে। এটা যদি শিশুর ডিভাইসে ইন্সটল করা হয় তবে এটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট দেখতে পারবে না শিশু। ইউটিউব কিডস নামে একটি অ্যাপ আছে যেটি শিশুদের কথা মাথায় রেখেই কন্টেন্ট তৈরি করে। তবে এ অ্যাপটি এখনো বাংলাদেশে নেই। তাই এ ব্যাপারে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় বাবা বা মায়ের ডিভাইস-ই শিশু ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সেফ ব্রাউজার-প্যারেন্টাল কন্ট্রোল নামে একটা অ্যাপস আছে। এটি মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসিতে ইন্সটল করে যখন বাচ্চারা ব্যবহার করবে তখন তা চালু করে রাখা সম্ভব।

সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এই অ্যাপটি এনাবল-ডিসাবল করার অপশন আছে। এটি প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা যায়। সিকিউরিটি বিষয়ক আরো অ্যাপস আছে যেগুলো ইন্সটল করে রাখলে অন্যান্য অ্যাপসেও যাতে অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট না আসে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, পিসি বা ল্যাপটপের ব্রাউজারে আলাদা ছোট প্লাগ-ইনস এর মতো ‘ব্রাউজার এক্সটেনশন’ ইন্সটল করে রাখলে এটিও অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আসা বন্ধ করে দেয়। এমনকি সার্চ করলেও পাওয়া আসবে না। এসব ‘ব্রাউজার এক্সটেনশন’ ফ্রিতে পাওয়া যায়।

৩. চাইল্ড ভার্সন অপশনটি ব্যবহার করুন
অ্যাম্বার অ্যাট হোম এর প্রধান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চাইল্ড ভার্সন আছে। এ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেয়া যায় যেটি তারা ব্যবহার করলেও অভিভাবকদের সুপারভাইজ করার সুযোগ থাকে। ফেসবুকে বাচ্চাদের ব্যবহারের জন্য একটি অপশন আছে। ম্যাসেঞ্জারেও অপশন আছে। ওই অপশনে কেউ আপনার বাচ্চাকে অনুরোধ বা রিকোয়েস্ট পাঠালে আপনার কাছেও তা আসবে। আপনি অনুমতি দিলে তারা চ্যাট করতে পারবে।’

৪. ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার সময় সচেতন হোন
আমাদের দেশে বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছেন যারা ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকেন। তবে যে কোম্পানির কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগটি নেয়া হচ্ছে তাদের বাচ্চাদের জন্য সেফ ইন্টারনেট-এর ফিচারটি আছে কি না তা যাচাই করে নেয়াটা ভালো। এই ফিচারটি থাকলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেই কিছু সাইট বা কন্টেন্ট ব্লক করে দেয়ার ব্যবস্থা থাকে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘ওয়াইফাই সংযোগের জন্য আমরা যে অ্যাকসেস পয়েন্ট বা ডিভাইস যেমন রাউটার ব্যবহার করি সেগুলোর বেশিরভাগেই কিছু সুবিধা থাকে। যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একবার ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া প্রতিষ্ঠ