আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায়
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে দলটি নিষিদ্ধের দাবি জোরালোভাবে উঠে আসছে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আদালতে বিচার চলবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করার বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন: গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর শেখ হাসিনার ভারত পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনের পতন ঘটে। তবে এর আগে জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়, যেখানে জাতিসংঘের তদন্ত অনুযায়ী ১৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো সামরিক অস্ত্র ও শটগানের গুলিতে মারা যান। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়েছেন। পঙ্গু হয়েছেন অনেকেই। অনেকের দুই চোখ, কারো কারো এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। ১১ হাজার সাতশর বেশি মানুষকে র্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। দলটির নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিলের দাবিও তোলা হয়েছে। শুক্রবার (২১ মার্চ) বিভিন্ন সংগঠন ঢাকায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি দল প্রতিবাদ জানায়।
রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে লেখেন, ‘গণহত্যার বছর না ঘুরতেই আওয়ামী লীগকে ফেরানোর খায়েশ বিপজ্জনক।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না যাতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হয়।’ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যারা নিরপরাধ, তারা যদি জনগণের সমর্থন পায়, তবে আমাদের আপত্তি নেই।’
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলার সম্ভাবনা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিভিন্ন সংগঠন দলটি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি কীভাবে সামাল দেবে, সেটি নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।