আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন: তথ্য চায় জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে সরকার পতন আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সবার কাছে তথ্য চেয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল ।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একটি ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে সেখানে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। দলটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, চিকিৎসা পেশাজীবী এবংঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে এই তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।
অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন, দায়দায়িত্ব চিহ্নিতকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সুপারিশ করবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল।
তাদের ইমেইলে (OHCHR-FFTB-Submissions@un.org) সকল ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থা তথ্য দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এটি কোনো অপরাধ অনুসন্ধান বা আইনি তদন্ত নয় জানিয়ে বলা হয়, এটি যেকোনো জাতীয় ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
“এই তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে গোপনীয়। তদন্ত চলাকালীন তদন্ত দলের সদস্যরা কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। তারা সকলকে তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করেছেন।”
আরও তথ্যের প্রয়োজন হলে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্রের সঙ্গে ইমেইলে (OHCHR-media@un.org) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মধ্যে জেলায় জেলায় সহিংসতায় মাত্র তিন সপ্তাহে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির তথ্য আসে।
অগাস্টের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারবিরোধী থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
৫ অগাস্ট আন্দোলনকারীদের ঢাকামুখী লং মার্চের মধ্যে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর বিভিন্ন থানা, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়ি, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়। সরকারবিহীন সাংবিধানিক সংকটের চার দিনে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর আসে।