বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ হচ্ছে: জি এম কাদের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 04 নভেম্বর 2026, 10:43 দুপুর • 6 বার পঠিত
আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ হচ্ছে: জি এম কাদের

পোশাক শ্রমিকদের ‘ন্যায্য মজুরি’ দাবির আন্দোলন দমনে সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বুধবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও আন্দোলনকারীদের উপর ‘দমন পীড়নের’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জনিয়েছেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, “দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাক শিল্প বা গার্মেন্টস খাত থেকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা ক্রমবর্ধমান বাজার দরের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয়, রান্নার জ্বালানীর খরচ মেটানো বর্তমান বেতন কাঠামোতে শ্রমিকদের পক্ষে শুধু কষ্টসাধ্য নয়, বলা যায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

“এমন বাস্তবতায় গার্মেন্টস খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক তাদের জীবন ধারনের নুন্যতম ব্যায় নির্বাহ করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে শ্রমিকরা তাদের নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছে বেশ বিছু দিন যাবত। লক্ষ্য করছি সরকার তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে দমন নীপিড়নের আশ্রয় নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার উদ্দেশ্যে শারিরিকভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করছে গর্মেন্টস শ্রমিকসহ আশপাশে বসবাসরত অসংখ্য বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে।”

আহত তৌফিক নামে এক পোশাক শ্রমিকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়াকে হত্যা দাবি করে এর নিন্দা জানান কাদের। নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন তিনি।

বিদ্যুৎ, গ্যাসের বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ না থাকা ইত্যাদি কারণে কারখানাগুলোতে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি তার। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি, বন্দরগুলোর বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে মালিকরা বিপর্যস্থ। তাদের উৎপাদন খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

"এ প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের বাড়তি বেতনের দায়ভার নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা দুঃসাধ্য হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব ও ভোগ্যপণ্যের বাজার সীমিত হয়ে আসছে।”

শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের দাবি ‘ন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি এর ন্যায়সঙ্গত সমাধান সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন।

জি এম কাদের বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত মজুরি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। যথাযথ হিসাব করে নগদ অর্থ সহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিকদের ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, রান্নার জ্বালানি হিসাবে এলপি গ্যাস ইত্যাদি মালিকদের মাধ্যমে বা সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মনে করছি।”