আম্ফানের ক্ষতিতে অসহায় জীবন
সাতক্ষীরা জেলাধীন আশাশুনি উপজেলার মাড়িয়ালা গ্রামের ২৯টি পরিবার স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে বসবাস করছে গত মে মাসের ২১ তারিখ থেকে। এর আগের ২০ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে নদীর বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়। খোলপেটুয়ার প্রবল দাপটে মাড়িয়ালা ও হাজরাখালী গ্রামের গোটা পঞ্চাশেক পরিবারের ঘরবাড়ি একেবারে ভেসে যায়। আর এই দুটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো পানিতে থইথই করতে থাকে। উপায়হীন গ্রামবাসী আশপাশের উঁচু জায়গা, দুটি স্কুলঘর ও স্বজনদের বাড়িতে ঠাঁই নেয়। সাত মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে, এখনো গ্রামগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়, ভাটায় পানি নামে। এভাবে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় দুইবার জোয়ারের পানিতে গ্রামগুলো ডুবছে। মানুষগুলোর স্বপ্নও ডুবছে। কাজ বলতে নেই। জীবন-জীবিকার চরম অনিশ্চয়তা। ঠাঁই হলেই তো হলো না, পেটের ক্ষুধা মেটানো চাই। স্কুলঘরে ঠাঁই নেওয়া করিমন বেগম বলেন, ‘সেই থিকে এনজিওগে সাহায্যির উপর জীবন চলতিছে। চেয়ারম্যান আইয়েলো, মেম্বারও ছিল, তারা একবার কয়ডা চাল দেলো।’
দুর্যোগগ্রস্ত একাধিক মানুষ জানায়, একাধিক এনজিওর কাছ থেকে তারা সহায়তা পেয়েছে। তিন থেকে সাত হাজার টাকা নগদ সহায়তার পাশাপাশি চাল-ডাল-নুন, সাবান-সোডা-বালতি প্রভৃতি পেয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের সহায়তাপুষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্টার্ট ফান্ড এসব সহায়তা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার পরপরই তারা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। বরাবরই উপকূলভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। স্বাভাবিকভাবেই উপকূলের মানুষরা এতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের জরুরি সহায়তা তহবিল আছে, তারা বরাদ্দও দেয়; কিন্তু কোন মানুষ, কতজন মানুষ সহায়তা পায়, তা নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন ওঠে। উপকূলে আঘাত হানা সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ছিল খুবই ভয়ংকর। বাংলাদেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে এই ঝড়টির আঘাত অনুভূত হয়েছে, তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষত সাতক্ষীরা ও খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন উপজেলাগুলোতে এর ক্ষয়ক্ষতি ছিল অনেক বেশি। মাড়িয়ালা গ্রামটি ছাড়াও শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম এখনো পানির তলায় হাবুডুবু খাচ্ছে। কাজ হারিয়ে, দিনযাপনের সুযোগ বঞ্চিত হয়ে মানুষ অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হচ্ছে।