শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

আমেরিকায় ‘বিতর্কিত’ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 12 জুন 2020, 11:50 দুপুর • 46 বার পঠিত
আমেরিকায় ‘বিতর্কিত’ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে

আমেরিকার সাম্প্রতিক বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন যেন ক্রমশই হয়ে উঠছে ইতিহাস খুঁড়ে সত্য তুলে আনার এক অভিনব প্রতিবাদযজ্ঞ। এ প্রতিবাদী আন্দোলন এখন কেবলই কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই, আমেরিকার ভেতরে পুষতে থাকা নানামুখী বর্ণবাদ, জাত-পাত এবং বৈষম্যের খেরোখাতা উঠে আসছে সত্যের সমুখে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে আমেরিকাজুড়ে ‘বিতর্কিত’ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের মূর্তি বা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার মাধ্যমে।


আমেরিকা যে অনিঃশেষ ঘৃণা আর শোষণ শত বছর ধরে মিথ্যা অহমিকার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিল, সেই ঘৃণার বুদ্বুদ ক্রমশই স্ফুলিঙ্গ হয়ে আমেরিকার মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে। দাসব্যবসার ঘৃণ্য ইতিহাস তো আছেই, আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য দখল, মেক্সিকোর প্রতি দমন-পীড়ন, দক্ষিণ আমেরিকার মানুষদের প্রতি শোষণ-নির্যাতন, অভিবাসীদের সঙ্গে পশুসুলভ আচরণ—সব ইতিহাস উগড়ে দিচ্ছে এক এক করে।

শুরুটা হয়েছিল ১৭শ শতাব্দীর এডওয়ার্ড কলস্টনের মূর্তি ভাঙা দিয়ে। এরপর আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য বিস্তারের মূল হোতা পর্তুগিজ নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে ধরা হয়, আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ভাঙা হয় কথিত এই আমেরিকা আবিষ্কারকের মূর্তি।

বাদ যায়নি উনবিংশ শতাব্দীর রাজনীতিবিদ জেফারসন ডেভিস। যিনি ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকার দক্ষিণ অংশের বেশ কিছু স্বাধীন রাজ্য দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নিয়ে আসেন। এই রাজ্যগুলো মধ্যে অন্যতম রাজ্য হলো ভার্জিনিয়া। ভার্জিনিয়াতেই সবচে জোরদার হচ্ছে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহর থেকে গত রাত ১১টায় ভেঙে ফেলা হয় জেফারসন ডেভিসের মূর্তি। 

আমেরিকার প্রতিটি শহরের গভর্নরগণ এখন রাতারাতি তাদের শহর থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তির মূর্তি ও ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলছেন।