শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

আগাম নির্বাচনের লক্ষ্যে সংসদ ভাঙছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 23 জানুয়ারী 2026, 01:56 দুপুর • 185 বার পঠিত
আগাম নির্বাচনের লক্ষ্যে সংসদ ভাঙছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

আগাম নির্বাচনের পথে এগোচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। শুক্রবার তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে অন্তবর্তী  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নিজের মন্ত্রিসভার উচ্চ জনসমর্থনের ওপর ভরসা করছেন তাকাইচি। 

তার লক্ষ্য হলো, তুলনামূলকভাবে অজনপ্রিয় ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনী বিজয়ে পৌঁছে দেওয়া।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সোমবার নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। 

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থেকে পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগে জনগণের সমর্থন চাইছেন তিনি।

তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) জোট নিম্নকক্ষে মাত্র অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

এলডিপির জনপ্রিয়তা কম। একের পর এক কেলেঙ্কারিতেও দলটি চাপে রয়েছে। 

তবে তাকাইচি আশা করছেন যে মন্ত্রিসভার প্রতি জনসমর্থন তাকে শক্ত ম্যান্ডেট এনে দেবে।

তসুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোতো এএফপিকে বলেন, ‘তাকাইচি সরকারের প্রতি জনসমর্থন এলডিপি’র প্রতি সমর্থনে রূপ নেবে কি-না, তা স্পষ্ট নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের প্রধান উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার ব্যবস্থা।’

শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে জাপানের মূল্যস্ফীতি কমেছে। 

বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সরকারি ভর্তুকির প্রভাব এতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তাজা খাদ্য বাদ দিয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বর মাসে বছরে বছরে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশে। নভেম্বরে তা ছিল ৩ শতাংশ। এটি উল্লেখযোগ্য হ্রাস। তবে এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

বর্ধিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে জন-অসন্তোষই মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের কারণ ছিল। 

গত অক্টোবরে তাকাইচি তার স্থলাভিষিক্ত হন।

দীর্ঘদিন মুদ্রাস্ফীতিহীনতার ভোগান্তিতে থাকা জাপান সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল ইয়েনের চাপের মুখে পড়েছে। এতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে।
চালের দাম এই সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে আগের বছরের তুলনায় চালের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছিল। 

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এই দাম কিছুটা কমেছে।

তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় ডিসেম্বরে চালের দাম এখনও ৩৪ শতাংশের বেশি ছিল।

—কর ছাড়—

নির্বাচিত হলে মুদ্রাস্ফীতিতে চাপে থাকা মানুষের ‘বোঝা লাঘব’ করতে দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর বিক্রয় কর কমানোর অঙ্গীকার করেছেন তাকাইচি।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশকে স্থিতিশীল করতে এবং এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অঙ্গীকার জানিয়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থ-বছরের জন্য রেকর্ড ১২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বাজেট অনুমোদন করেছে, যা প্রায় ৭৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, নিম্নকক্ষ ভেঙে দিলে সংসদে বাজেট পাসে বিলম্ব হতে পারে। প্রধান বিরোধী কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) নেতা জুন আজুমি বলেন, এতে মানুষের জীবিকাকেই বিসর্জন দেওয়া হবে।

—মধ্যপন্থী জোট—

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রায় কয়েক দশক ধরে জাপান শাসন করে আসছে। মাঝেমধ্যে নেতৃত্ব বদলালেও ক্ষমতায় তাদের অবস্থান প্রায় অবিচ্ছিন্ন।

প্রধান বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) আরেক দল কোমেইতোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে। তাদের লক্ষ্য, নতুন ‘মধ্যপন্থী সংস্কার জোট’-এর মাধ্যমে দোদুল্যমান ভোটারদের তাকাইচির দিক থেকে সরিয়ে নেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, জোটের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। তবে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা এখনও ক্ষীণ।

মিজুহো রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস এক নোটে জানায়, ‘জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চকক্ষ নির্বাচনের মতোই এবারও তরুণ ও মধ্যবয়সী ভোটারদের ভোটের আচরণই নির্ণায়ক হতে পারে।’ 

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে রক্ষণশীল সানকেই শিম্বুন পত্রিকা ও ফুজি টেলিভিশনের প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে তাকাইচি সরকারের প্রতি সমর্থন প্রায় ৯০ শতাংশ।