আ. লীগ রাজনীতিতে ফেরার উদ্যোগ নেয়নি, বরং আমরা বিতর্ক করছি -মান্না
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানো নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজে থেকে রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও দলগুলো নিজেদের মধ্যে বিরোধ করে বিষয়টি আলোচনায় আনছে।
শনিবার (২২ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, "দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় থাকা প্রয়োজন এবং তাদের (আওয়ামী লীগের) বিচার হওয়া উচিত। তবে আমি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিচ্ছি না, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার ও সরকারপ্রধান যদি জনগণকে আহ্বান জানান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণেরই নেওয়া উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "সাড়ে সাত মাসে আওয়ামী লীগ সামান্য অগ্রগতিও দেখাতে পারেনি। তারা নতুন কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা গ্রহণযোগ্য বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেনি। এ অবস্থায় জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।"
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যদি কোনো সমঝোতা হয়ে থাকে, এবং কিছু ছাত্র সংগঠন যদি বলে যে এমন সমঝোতা হয়েছে, তবে কিছু রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। যদি সমঝোতা করেই নির্বাচন হয়, তবে সংস্কার কেন করা হবে?"
নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর দলটি এমন সংস্কার চায়, যাতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসক না আসে, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। তবে দলটির অভিযোগ, সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম এসব লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর কাদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, "বর্তমানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোতে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বরং কিছু অযৌক্তিক প্রস্তাব নিয়ে সময় ও সম্পদের অপচয় করা হয়েছে, যেমন—দেশকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং ৫০৫ আসনের আইনসভা তৈরি করা।"
নাগরিক ঐক্যের দাবি, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ আগেই কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে চাইছে। দলটি জানিয়েছে, তারা ১০৪টি প্রশ্নে একমত, ৫১টি প্রশ্নে দ্বিমত এবং ১১টি প্রশ্নে আংশিক একমত হয়েছে।
এছাড়া, তারা অভিযোগ করেছে যে, কমিশনের প্রশ্ন প্রণয়নে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি এবং নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।