শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

আ. লীগ ৭ শতাধিক গুম, সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 আগস্ট 2026, 03:20 দুপুর • 100 বার পঠিত
আ. লীগ ৭ শতাধিক গুম, সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে

১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ৭০০-এর বেশি মানুষকে গুম করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের স্বজনরা আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে তাদের ফেরার প্রতীক্ষায় কাঁদেন।

এ ছাড়া কেবল বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তি থেকে শুরু করে হজে থাকা ব্যক্তিকেও বোমাবাজি বা ডাকাতির মামলায় জড়ানো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে আহত জুলাইযোদ্ধা এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাত্র ২০ দিনের (১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য সাহসী মানুষ জীবন দিয়ে আমাদের নতুন করে বাঁচার ও স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছেন। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ এই আন্দোলনে হাত, পা বা চোখ হারিয়েছেন; অনেকে শরীরে বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন। সেইসব বীর যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম-খুন-নিপীড়ন ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়নে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়তে আবৃত্তিশিল্পীদের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের দেশব্যাপী উদ্যোগের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত মানুষের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ এই সংগঠনটি নিয়েছে এবং তার সঙ্গে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাকে যেভাবে সংযুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।

এ সময় তিনি আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অগ্রজ মেহেদী হাসানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মেহেদী হাসান একজন সৎ ও সাদা মনের মানুষ। তার কণ্ঠে যখন আবৃত্তি শুনি, তখন থমকে দাঁড়াই। তার নেতৃত্বে আবৃত্তি ফেডারেশন রক্তপাতহীন, নির্মল ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে- তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

আবৃত্তিশিল্পীদের আইনি মূল্যায়নের বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় শিল্প-সংস্কৃতির জগতে আবৃত্তি সেক্টরের কোনো আইনি মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি ছিল না। আবৃত্তিকারদের শিল্পীর পর্যায়ে ফেলা হতো না। পরবর্তীতে যখন আইনমন্ত্রী হই, তখন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের সুযোগ আসে। সেই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি অঙ্গন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা সক্ষম হই। এজন্য তৎকালীন জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যকেও ধন্যবাদ জানাই।

আবৃত্তিকারদের রাজপথমুখী ও মুক্তিকামী মানুষ গড়ার কারিগর আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে আবৃত্তি ফেডারেশনের যেকোনো যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক আবৃত্তিশিল্পী, শিশু-কিশোর ও শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।