৩৩ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ উদ্ধার
তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর পশ্চিমাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ঘটে যাওয়া এজিয়ান সাগরের এ ভূমিকম্পের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে ৯৬২ জন।
জানা গেছে, ভূমিকম্পে ইজমিরের বেরাকলি জেলায় যে ২০টি ভবন ধসে পড়েছিল, তার একটির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রোববার ভোররাতে আহমেদ সিতিম নামের ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবারও উদ্ধারকর্মীরা একটি ভবনের ধ্বংস্তুপের নিচ থেকে একজন মা ও তার চার সন্তানকে উদ্ধার করেছিল।
ভূতাত্ত্বিক চ্যূতি থাকার কারণে তুরস্কের উপকূল ভূমিকম্পপ্রবণ। ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ ছিল বলে জানিয়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক কান্দিলি ইনস্টিটিউট; ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সামোসের উত্তর পূর্বে এজিয়ান সাগরে।
তুরস্কে যে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহমেদ সিতিমকে উদ্ধার করা হয়, সেই একই ৮ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ভূমিকম্পের ১৭ ঘণ্টা পর ১৬ বছর বয়সী ইনসি ওকান ও তার কুকুর ফিস্তিককেও উদ্ধার করা হয়েছিল।
তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেনিতন কোচা এবং ন্যাশনাল মেডিকেল রেসকিউ টিমের (ইউএমকেই) সদস্য এদানুর দোগান হাসপাতালে ওকানকে দেখতে যান। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ১৬ বছরের ওই কিশোরী বলেন, “আমি খুব খুশি। ভাগ্য ভাল আমার বাবা বাসায় ছিলেন না। বাবা সেখানে ভালভাবে থাকতে পারতেন না। “হয়ত তার মাথায় আঘাত লাগত। আমি ছোট। ছোট হওয়ার কারণেই আমি চিপার মধ্যে পড়েছিলাম। এ কারণে আমাকে উদ্ধার করাও সম্ভব হয়।”
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে দোগানকে ভায়োলিন বাজিয়ে শোনানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওকান।
“আমি আপনার জন্য ভায়োলিন বাজাব, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি,” বলেছে ১৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এ কিশোরী।