যুক্তরাষ্ট্র জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আগের প্রচেষ্টা বাতিল করার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন।
প্রথম আদেশ: জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে নতুন সীমাবদ্ধতা
ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না যদি—
বাবা-মায়ের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য হন,
বিদেশি সরকারের কর্মচারী হন,
প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন,
অথবা এমন মার্কিন ভূখণ্ডে থাকেন যেখানে নাগরিকত্ব ফেডারেল আইনে নির্ধারিত নয়।
এটি ১৪তম সংশোধনীতে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
দ্বিতীয় আদেশ: ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিষিদ্ধ
গর্ভবতী নারীরা সন্তানকে মার্কিন নাগরিক করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন—এটিকে ট্রাম্প প্রশাসন “বার্থ ট্যুরিজম” বলে।
তিনি দাবি করেন, এভাবে কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।
তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান MPI বলছে, প্রকৃত সংখ্যা বছরে ২২–২৬ হাজার, আর ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাধারী মায়েরা জন্ম দিয়েছেন ৯,৬০০ শিশু।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও প্রশাসনের যুক্তি
ট্রাম্প বলেন, বিদেশি প্রতিপক্ষ দেশগুলো এই সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করছে।
উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দাবি করেন, পর্যটক সেজে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়া হচ্ছে, যা পরে ভোটাধিকার ও কল্যাণ সুবিধায় প্রবেশাধিকার দেয়।
তারা বলছেন, ইমিগ্রেশন আইনের একটি ধারা প্রেসিডেন্টকে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ক্ষমতা দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান
২০২৫ সালে ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন।
আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে, এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখে।
ট্রাম্প এটিকে “খারাপ ও অন্যায্য সিদ্ধান্ত” বলে সমালোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মত
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন বলেন—
প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে,
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুকে নাগরিক নয় ঘোষণা করার ক্ষমতা নেই।
বার্থ ট্যুরিজম মোট জন্মের তুলনায় “সমুদ্রের এক ফোঁটা”—অত্যন্ত ক্ষুদ্র ঘটনা।
ট্রাম্প নতুন আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে এবং বার্থ ট্যুরিজম বন্ধ করতে চাইছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় ও সাংবিধানিক প্রশ্নের কারণে এই পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।