শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
মাকিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘সন্তোষজনক’ আলোচনা হয়েছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিং, ৬৩০ কোটি ডলার চুরি এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করল ফিচ ইউক্রেনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই সংশোধন হচ্ছে ৩৮ লাখ আইসিটি বই: এনসিটিবি চেয়ারম্যান
ইসলাম

যে তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 22 জুন 2021, 10:19 দুপুর • 2,178 বার পঠিত
যে তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না

‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ...তারা হলো—ক. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে; খ. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং গ. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’ মুসলিম, হাদিস : ১০৬

মানুষের উপকার করার প্রবণতা একটি মহৎ গুণ। যারা অন্যের উপকার করে হাদিসের ভাষায় তাদের শ্রেষ্ঠ মানুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত, হাদিস : ৫৭৮৭)

এই কাজের পুরস্কারও অনেক বড়। দুনিয়াতে মানুষের সংকট দূর করার পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ সে উপকারকারীর আখিরাতের সংকটগুলো দূর করে দেবেন। যেখানে হাজার দুনিয়ার বিনিময়ের বিনিময়েও একটি নেকি কেনা যাবে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)
অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এলে এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মানিত করেন। তবে শর্ত হলো, এ ধরনের কাজে অবশ্যই পূর্ণ ইখলাস থাকতে হবে। ইখলাস ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আর ব্যয় করার পর খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তারা নিজ প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান পাবে। তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত  : ২৬২)

কারো উপকার করে তাকে খোঁটা দেওয়া এবং তাকে ছোট করার লক্ষ্যে অন্যের কাছে তা প্রচার করে বেড়ানো ইখলাসবিরোধী কাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকাকে সেই ব্যক্তির মতো নষ্ট কোরো না, যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত এ রকম, যেমন এক মসৃণ পাথরের ওপর মাটি জমে আছে, অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ে ও তা সেই মাটি ধুয়ে নিয়ে যায় এবং সেটিকে আবার মসৃণ পাথর বানিয়ে দেয়। এরূপ লোক যা উপার্জন করে, তার কিছুমাত্র তারা হস্তগত করতে পারে না। আর আল্লাহ এরূপ কাফিরদের হিদায়াত দান করেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)

খোঁটা দেওয়ার কারণে আল্লাহর ক্রোধের সম্মুখীন হতে হবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিন ব্যক্তি এমন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আবু যর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিন-তিনবার বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা, তারা তো সর্বস্বান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল? তিনি বলেন, (ক) যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে; (খ) যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং (গ) যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৬)