ভারতে বাংলাদেশি বন্দিদের সংখ্যা হ্রাস
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে আটক ২০ জন নাবালক ছেলে-মেয়ে এবং একজন নারীসহ মোট ২১ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২০ মার্চ) যশোরের বেনাপোল রোড চেকপোস্টের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া: সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ভ্রমণ অনুমতিপত্র জারি করার পর ৩ মার্চ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ১২ মার্চ ভারতের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস (FRRO) থেকে ‘ভারত ত্যাগের নোটিশ’ জারি করা হয়। একই দিনে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের শিশু অধিকার ও পাচার রোধ শাখা ফেরত আসা নাবালকদের গ্রহণ করেছে। ভারতের সীমান্ত স্থলবন্দর পেট্রাপোলের আইসিপির (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এক কর্মকর্তা জানান, উভয় দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আইসিপি হরিদাসপুর/পেট্রাপোল চেকপোস্টের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বাস্তবায়ন: ৩০ জানুয়ারি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয় যে, বিদেশি আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এবং সম্পূর্ণ সাজা ভোগ করার পর সংশোধনাগারে আটক অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই নির্দেশের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলো।
বাংলাদেশি বন্দিদের সংখ্যা হ্রাস: পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশি বন্দিদের সংখ্যা কমে ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে (২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত)। ২০১১ সালে সাজা শেষ হওয়ার পর প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় ৪৯৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
ফেরত যাওয়া বাংলাদেশিদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, ফরিদপুর, কক্সবাজার ও নড়াইল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।