শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
শিক্ষা

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবো

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 07 ফেব্রুয়ারি 2026, 03:11 দুপুর • 193 বার পঠিত
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবো

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী ১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল ওহাব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন ও সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অঙ্গীকারের কথা জানান।

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাব মিনার একজন খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবক, লেখক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)র সিনিয়র জয়েন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন প্রাজ্ঞ চিকিৎসক ও মনোরোগবিদ্যার খ্যাতিমান অধ্যাপক। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর ইন্টার্নশিপ শেষ করেই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা ইন সাইকিয়াট্রি (ডিপিএম) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে এফসিপিএস (সাইকিয়াট্রি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাবের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের ভ্রাম্যমাণ পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাব: আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রথমেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এলাকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমার অগ্রাধিকার। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, পর্যটন নগরী কুয়াকাটার আধুনিকায়ন এবং মৎস্য শিল্পের সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেবো। কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং ভাঙা-কুয়াকাটা ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাব: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের জন্য আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সবাই আচরণবিধি মেনে চলছেন। এখন পর্যন্ত এই আসনে কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। আমি আশা করি আগামীতেও ঘটবে না, কারণ এখনকার মানুষ অনেক বেশি সচেতন। 

বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?

আব্দুল ওহাব: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান মানেই দলের অবস্থান। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবস্থানও একই। জুলাই সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হবে। তাই আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকবো। জনগণকে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করছি।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাব: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন, যারা শহীদ হয়েছেন এবং গত ১৭ বছর ধরে যারা বঞ্চিত ছিলেন তাদের প্রত্যাশার সঙ্গেই আমার প্রত্যাশা। দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই এখন সবচেয়ে জরুরি।

পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসন। বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-১ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১১ নম্বর এই আসনটি জেলার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। উত্তরে বরিশাল জেলার অংশবিশেষ, দক্ষিণে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৪ আসন, পূর্বে বাউফল এবং পশ্চিমে বরিশাল বিভাগের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত এই জনপদ কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা ও শিক্ষার সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত।

নদী, খাল ও জলাশয়বেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার বড় অংশ নির্ভর করে কৃষি ও মৎস্যখাতের ওপর। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবা খাতও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ঘাটতি, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট এখানকার মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এসব বিষয়ই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটারের এই আসনটি রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর পাশাপাশি জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল মন্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ জাসদ থেকে গৌতম চন্দ্র শীল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. ফিরোজ আলম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে শহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং ১১ দলীয় জোট তথা খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আব্দুল ওহাব নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। ফলে এ আসনে বহুমুখী প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে এবং প্রচার-প্রচারণাও দিন দিন জোরদার হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলোই পটুয়াখালী-১ আসনের ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে এ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে।