শ্রীলঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ
নতুন নতুন সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। তাতে দেশটির নাগরিকদেরও আজকাল প্রায় রোজ হচ্ছে নতুন সব অভিজ্ঞতা। এবার ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
দেশজুড়ে চলছিল বিক্ষোভ। বাধ্য হয়ে সরকার কারফিউ জারি করে। এরপর জারি করে জরুরি অবস্থা। এসবের মধ্যে দেশটির সরকার অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান একটি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, এটা সাময়ীক সময়ের জন্য। ভুল তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেই এর শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
স্বাধীনতার ৭৪ বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কা এখন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে আমদানীর সামর্থ্য হারিয়েছে দেশটি। জ্বালানির ব্যাপক ঘাটতি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে প্রতিবাদী করে তুলেছে। দেশটিতে এখন গড়ে ১১/১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসার বিরুদ্ধে ফুসে ওঠা মানুষ গত বৃহষ্পতিবার তার একটি ভবনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ করেছে। সেখানে ভবনের একটি দেয়াল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাস্তায় গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কিছু মানুষ আহত হন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৫৩ জনকে আটক করা হয়। তবে তাদের মধ্যে কতোজন আহত হয়েছে তা জানানো হয়নি। এসবের পর কারফিউ জারি করা হয়েছিল কলম্বোতে। এরপর সেনাবাহিনী নামানো হয়। তারপর এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে শ্রীলঙ্কাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা।