সিরিয়ায়, করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নারাজ
যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায়, করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে রোগী নারাজ । স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বেহাল দশা ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে যাওয়ার চেয়ে বরং বাড়িতে বসে মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করছেন তারা।
দামাকাসের উপকণ্ঠে একটি একটি হার্ডওয়্যার দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন আহমেদ। অবসন্নতা, তীব্র জ্বর, স্বাদহীনতাসহ করোনার প্রায় সব উপসর্গই আছে তার শরীরে। কিন্তু এরপরও হাসপাতালে গিয়ে নমুনা টেস্ট করানোর ব্যাপারটি ভাবেননি বলে জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে আহমেদের প্রথম সমস্যাটি ছিল টেস্টের অত্যধিক ব্যয়, দ্বিতীয়ত তার ধারণা ছিল বিষয়টি ভয়াবহ।
সিরিয়ার স্বাস্থ্য কাঠামোর পরিস্থিতি তুলে ধরে কুড়ি বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, “কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে বলে এবং যথাযথ চিকিৎসা পাবে না বলে আমি খুব ভীত ছিলাম।”
ফলে হাসপাতালে না গিয়ে আহমেদ নিজেকে নিজ রুমের মধ্যেই আবদ্ধ করে রাখে। ফেসবুকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন তিনি। মোবাইল ফোনের স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। আহমেদ বা তার সংস্পর্শে আসা কেউই করোনা টেস্ট করাননি। ফোনে আল-জাজিরাকে আহমেদ বলেন- “আমি এই খরচ বহন করতে পারব না।”
আহমেদ জানান, সিরিয়ায় করোনা নতুনা পরীক্ষা করানো অনেক ব্যয়বহুল। তা করতে গেলে তার খরচ হতো ১ লাখ ২৬ হাজার সিরিয়ান পাউন্ড (২৪৬ ডলার), যা আহমেদের এক মাসের বেতনের চেয়ে বেশি।
করোনা মহামারিতে সিরিয়দের দুর্ভোগ নিয়ে আল-জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দৃশ্যই উঠে এসেছে।