শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

রোজা ও রমজান: পর্ব- ১৪ বিষয়: রোজা ও রমজানের শিক্ষা

মুফতি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন • 11 এপ্রিল 2022, 10:38 রাত • 951 বার পঠিত
রোজা ও রমজান: পর্ব- ১৪ বিষয়: রোজা ও রমজানের শিক্ষা

৬। সহমর্মিতা ও সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি জাগ্রত করেঃ পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভতি জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত সেই আইনের মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষের নুন্যতম কোনো কল্যাণ হয়নি। অভাবী, গরীব, মিসকিন, ফকির, ক্ষুধার্ত মানুষগুলো যেমন বঞ্চিত ছিল আজও ওরা মানবিক সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত। অপর দিকে ইসলাম যেমন আইন করেছে তেমনিভাবে তা বাস্তবায়নও করেছে। যেভাবে তা কার্র্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে তা দুনিয়ার আর কোনো মতাদর্শ কখনো পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

ইসলাম বিত্তবান মানুষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে অভাবী, গরীব, মিসকিন ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। পবিত্র কুরআনের সূরা যারিয়াতের উনিশ নাম্বার আয়াতে একথা বলা হয়েছে যে ‘আর বিত্তশালীদের সম্পদে ক্ষুধার জ্বালায় প্রার্থনাকারী এবং বঞ্চিতদের হক রয়েছে।’ ইমাম বুখারী (রাহ.) এর রচিত ‘আল-আদাবুল মুফরাদে’ বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে ‘ঐ ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে উদরভরে আহার করে অথচ তাঁর প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে।’ এ সম্পর্কে কুরআন-হাদীসে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফযিলত বলা হয়েছে। দুনিয়ার মুসলিম বিত্তশালী ব্যক্তিরা যেন অভাবী, গরীব, মিসকিন, ফকির, ক্ষুধার জ্বালায় প্রার্থনাকারী এবং বঞ্চিতদের প্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাহায্য এবং সহযোগিতার ভূমিকা পালন করে, সে জন্য ইসলামে রমযান মাসের সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাদের বিবেকের উপর চরমভাবে নাড়া দেওয়া হয়েছে। আপনারা একটু লক্ষ করলেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

যেমন দেখুন, সাধারণত আমাদের বাংলাদেশে রমযান ব্যতীত অন্যান্য মাসে তিন বেলা পানাহার করা হয়ে থাকে। এভাবে সমাজের বিত্তশালীরা সারা বছর আরামে তিন বেলা উন্নত খাবার গ্রহণ করেন। কখনো খাবারের সংকট অনুভব করেন না। যার কারনে বিত্তশালী মানুষ কখনো অভাবী এবং গরীব মানুষের ক্ষুধার জ্বালা যথাযতভাবে বুঝতে পারেন না। এই জন্য মাহে রমযানে সুখী-দুঃখী, ধনী-গরীব সবাই সিয়াম পালন করবেন। সুখী এবং বিত্তশালীরা সিয়াম পালনের ফলে তিন বেলা খাবারের পরিবর্তে দু’বেলা পানাহার করার পর তারা অভাবী, ক্ষুধার্ত মানুষের পেটের ক্ষুধার জ্বালা উপলব্ধি করতে পারবেন। তখন সেচ্ছায় গরীব, মিসকিন, ফকির, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করতে উৎসাহী হবেন বলে অনেকটা আশা করা যায়। গরীবদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করতে পারবেন।

সুতরাং রমযানের সিয়াম পালন আমাদেরকে একথার শিক্ষা দেয় যে, সমাজের অভাবী, গরীব, ফকির, মিসকিন, ক্ষুধার জ্বালায় প্রার্থনাকারী এবং বঞ্চিতদের প্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাহায্য এবং সহযোগিতার ভূমিকা পালন করার জন্য। সুতরাং আমাদের জন্য উচিত হচ্ছে, এই মাহে রমযানে গরীবদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির উপলব্ধিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে সাফল্য মন্ডিত করা। জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা এবং জান্নাতের পথ সহজ করা।

 

মুফতি মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন
সাতাউক মধ্যগ্রাম, লাখাই, হবিগঞ্জ
আমলের কথা জানতে ইউটিউবে সার্চ করুন, 01712961470