পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কে?
‘আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না। কারো ব্যাপারে অবিচার করবো না আমরা। কাউকে জেলেও পাঠাবো না। আইন নিজের ধারায় চলবে। পাকিস্তানে ন্যায়বিচারের জয় হবে।’ শনিবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে শাহবাজ শরিফ এই বক্তব্য দিলেন। ততক্ষণে অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন ইমরান খান। আর শাহবাজ যেন হবু প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় কথা বলে উঠলেন।
নানা নাটকের পর ইমরান ক্ষমতা হারালেন। এখন পাকিস্তানের জন্য প্রশ্ন, দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন? এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আর এই আলোচনায় সবার আগে যে নাম সেটি শাহবাজ শরিফের।
গত ৪ এপ্রিলই বিরোধীরা নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজের নাম ঘোষণা করেছেন। শাহবাজ বিরোধীদলীয় নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সভাপতি। শনিবার মধ্যরাতে ইমরান ক্ষমতা হারানোর পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় জোট থেকে শাহবাজ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আগামীকাল সোমবার বসছে দেশটির জাতীয় পরিষদের অধিবেশন। এদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে। রোববার দুপুর ২টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে এবং যাচাই-বাছাই হবে বিকেল ৩টার মধ্যে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজের ক্ষমতায় আসার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জোর আলোচনায়। সম্প্রতি সারা বিশ্বে খুব পরিচিতি পেয়েছেন শাহবাজ। যেটি আগে তার ছিল না। স্বল্প পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই।
শাহবাজের দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সুনাম আছে। পাঞ্জাব প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি তিন দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক দল পরিচালনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে আসছেন শাহবাজ। দুর্নিতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে নওয়াজ শরিফ লন্ডন চলে গেলেন। এরপর তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) চালোনার দায়িত্ব শাহবাজের ওপর এসে পড়ে।
১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ক্ষমতার সময় জেল খাটতে হয় শাহবাজকে। পরের বছর সৌদি আরবে নির্বাসন পান। সেখানে থাকতে শুরু করেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে ২০০৭ সালে দেশে ফিরে যান। পরের বছর নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতে পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রীও হয়ে যান।
১৯৫১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শাহবাজ লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। লাহোর সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পারিবারিক ব্যবসার দিকেই যুক্ত ছিলেন। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ১৯৮৫ সালে লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হয়েছিলেন শাহবাজ শরিফ।
জীবনের নানা ধাপ কাটিয়ে শাহবাজের সামনে এবার নতুনের হাতছানি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ ডাকছে তাকে।