শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

অং সান সু চির সাজা দুই বছর কমিয়েছে জান্তা সরকার

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 07 ডিসেম্বর 2021, 08:17 রাত • 291 বার পঠিত
অং সান সু চির সাজা দুই বছর কমিয়েছে জান্তা সরকার

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নেত্রী অং সান সু চির সাজা দুই বছর কমিয়েছে জান্তা সরকার। সোমবার তার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায়ে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ ও অভ্যুত্থানকারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় এই দুই মামলায়। 

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গসহ তার বিরুদ্ধে আরো ৯টি মামলা করেছে জান্তা। সব কটিতে দোষী সাব্যস্ত হলে ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে তার।

জানা গেছে, সু চির বিরুদ্ধে করা এসব মামলার সমালোচনা করেছেন দেশি-বিদেশি মানবাধিকারকর্মীরা। তিনিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই অজ্ঞাত স্থানে বন্দী হয়ে আছেন তিনি। এখন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর তাকে ঠিক কখন বা আদৌ কারাগারে পাঠানো হবে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

সু চির এ রায় নিয়ে সংবাদমাধ্যম এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন জান্তা সরকারের মুখপাত্র জ মিন তুন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বীদের উস্কে দেওয়া ও করোনাবিধি ভঙ্গ করায় সু চিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে দুই বছর করে মোট চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুজনের কাউকে এখনই কারাগারে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মিন তুন। 

তিনি আরো বলেছেন, রাজধানী নেপিডোর যেখানে তারা এখন আছেন, আপাতত সেখানে রেখেই অপর মামলাগুলোর বিচারকাজ শুরু হবে। সু চি এবং উইন মিন্টকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য জানাননি তুন। অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে করা মামলায় ১৪ ডিসেম্বর তার বিচার শুরু হবে।

রায় হওয়া দুই মামলায় নেপিডোর বিশেষ সেনা আদালতে সু চির বিচারকাজ চলে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। এমনকি সু চির আইনজীবীরাও সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে পারেননি। রায় ঘোষণার সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় জান্তা সরকার। এর একটি রাজধানীর ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা। এর মাধ্যমে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা।

সু চির কারাদণ্ডাদেশের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘসহ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাসেলেট রায়ের নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘লজ্জাজনক বিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।