শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

নীল নদের শাখা নদী ব্লু নাইলের ওপর বাঁধ নিয়ে সংঘাত

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 16 জুলাই 2020, 06:00 বিকাল • 574 বার পঠিত
নীল নদের শাখা নদী ব্লু নাইলের ওপর বাঁধ নিয়ে সংঘাত

জলবিদ্যুৎ তৈরির জন্য নীল নদের শাখা নদী ব্লু নাইলের ওপর বাঁধ তৈরি করছে ইথিওপিয়া। আর এতে আপত্তি জানিয়েছে মিশর ও সুদান। তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সেই আপত্তিতে কান না দিয়ে বাঁধের কাজ আবার শুরু করে দিয়েছে তারা। সেটি নিয়ে তিন দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

ইথিওপিয়া বলছে, তাদের ১১ কোটি লোকের দারিদ্র্য ঠেকাতে এই বাঁধ অত্যন্ত জরুরি। এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়ে গেলে ইথিওপিয়া হবে আফ্রিকার সব চেয়ে বড় বিদ্যুৎ রপ্তানিকারী দেশ। ইথিওপিয়ার মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাঁধের নির্মাণ কাজ এবং জল আটকানোর কাজ পশাপাশি চলবে। জলস্তর এখন ৫২৫ মিটার থেকে ৫৬০ মিটার হয়েছে।

মিশর ইতিমধ্যে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাখ্যা চেয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্লু নাইল হলো নীল নদের শাখানদী। এখান থেকেই মিশরের ৯০ শতাংশ জল আসে। জাতিসংঘকেও মিশর জানিয়েছে, ইথিওপিয়া এই বাঁধ বানালে তাদের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেবে।

সুদান বলেছে, ইথিওপিয়া বাঁধের কাজ শুরু করার পর ব্লু নাইলে জল দৈনিক ৯ কোটি কিউবিক মিটার কমে গেছে। ইথিওপিয়া একতরফাভাবে এই কাজ করতে পারে না। বিশেষ করে যখন তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আর জলস্তর দেখে বোঝা যাচ্ছে, ইথিওপিয়া বাঁধের গেট বন্ধ করে দিয়েছে।

মিশরও বলছে, তারা পুরোপুরি নীল নদের জলের ওপর নির্ভরশীল এবং জল যেহেতু কমছে, তাই ১০ কোটি লোকের জীবনের ওপর বিশাল প্রভাব পড়বে। গত মাসেই মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, জতিসংঘ হস্তক্ষেপ না করলে সংঘাত অনিবার্য। বাঁধ হলে মিশর ও সুদান মিলিয়ে ১৫ কোটি লোকের জীবন বিপন্নহয়ে যাবে। তাই এই বাঁধ তারা মানবে না।

এমনিতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুদানের লাভ। তারা কম দামে বিদ্যুৎ পাবে। কিন্তু তাদের চিন্তা জল পাওয়া নিয়ে। মঙ্গলবার তিন দেশের মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং সেখানে কোনো মতৈক্য হয়নি। ফলে বিরোধ কীভাবে মিটবে তার কোনো সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে না।