কিশোরগঞ্জে শুরু হয়ে গেছে আগাম আলু চাষ
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। খরচ বাড়ছে সকল শ্রেণীর ভোক্তাদের। উৎপাদকের ভূমিকায় কৃষক হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা।
'গত বছর ডিজেল ও শ্রমিকের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ ছিল কম। এবার ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার বেশি হওয়ায় বেড়েছে কৃষি শ্রমিকের দাম। তাই আগাম আলু ব্যয় বেড়ে গেছে আলু চাষিদের। গত বছর যেখানে প্রতিবিঘা জমির আলু চাষ করতে খরচ হয়েছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা সেখানে এ বছর লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তারপরও আলু চাষ করছি কি করব জমি ফেলে রেখে তো লাভ নেই।' কথাগুলো বলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আগাম আলুচাষি বকুল হোসেন।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম আলু চাষ শুরু হয়েছে। আলু চাষিরা জানায়, সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণ করা হচ্ছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে তত বেশি লাভবান হবেন। শীত মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশা করছেন আলু চাষিরা।
কৃষকরা জানায়, একটি সময় এ অঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক অভাবের মাস নামে পরিচিত ছিল। হাজার হাজার কৃষক ও কর্মজীবী মানুষ চরম অভাবের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। সেই দিন আর নেই। ফসলের বহুমুখী করণ ও আগাম ফসল উৎপাদনে কৃষি বিপ্লবে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তা কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবার।
উপজেলার উত্তর দুরাকুটি, নিতাই, মাগুড়া, পুটিমারী, কালিকাপুর এলাকায় দেখা যায়, আগাম ধানের কাটাই মাড়াই শেষে জমিতে আগাম আলুর বীজ বুনছেন কৃষক। চারিদিকে যেন ফসল উৎপাদনের উৎসব।