শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
ইসলাম

কারো সম্মান নিয়ে খেলা করা গর্হিত অপরাধ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 24 এপ্রিল 2026, 04:58 দুপুর • 146 বার পঠিত
কারো সম্মান নিয়ে খেলা করা গর্হিত অপরাধ

মহান আল্লাহ মুসলমানের জন্য যে কয়েটি বিষয় হারাম করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো, কারো সম্মান নিয়ে খেলা করা। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও মান-সম্মানে হস্তক্ষেপ করা অপর মুসলিমের জন্য হারাম।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৯৩৩)

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে যুগে এক মানুষের সম্মান অপর মানুষের কাছে সস্তা হয়ে গেছে। কিছু মানুষ অন্যকে তুচ্ছ করার মধ্যেই যেন নিজের শান্তি খুঁজে পায়। অনলাইন-অফলাইন সর্বত্রই যেন একে অপরকে তুচ্ছ করার, উপহাস করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। কাউকে নিয়ে উপহাস করা, বিনোদন নয়। এটি মহান আল্লাহর আদেশের লঙ্ঘন। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ ধরনের কাজকে নিষিদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)

এই আয়াত শুধু একটি নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি হূদয়ের জন্য এক আয়না। আমরা যাকে নিয়ে হাসছি, সে হয়তো আল্লাহর কাছে আমাদের চেয়েও অধিক সম্মানিত!

অনেক ক্ষেত্রেতো দেখা যায়, নিজের চেয়ে সব দিকে সম্মানিত ও বড় ব্যক্তিকেও মানুষ তুচ্ছ করার চেষ্টা করে। এটা মানুষের নিচু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বন্য হাতিতো মানুষকে কামড় দেয় না, ক্ষুদ্র মশাই কামড় দেয়।

অশিক্ষিত ও বর্বর মানুষেরা সাধারণত কাউকে সম্মান দিতে জানে না। তারা কারো মাঝেই সম্মান করার কোনো কারণ খুঁজে পায় না। এর একটা কারণ হতে পারে যে অহংকার তাদের অন্ধ কর দিয়েছে। এ জন্য হয়ত মহানবী (সা.) বলেছেন, কারো মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৭)

অন্যের কণ্ঠ, চালচলন নকল করে বা তার দুর্বলতা তুলে ধরে মজা নেওয়ার চেষ্টা নিছুক দুষ্টুমি বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। অনলাইনে বা অফলাইনে কেউ এ ধরনের কাজে লিপ্ত হলে তাকে সতর্ক করা সবার দায়িত্ব। আমাদের মহানবী (সা.)ও এ বিষয়ে কোনো শিথিলতা দেখাননি। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো এক সময় মহানবী (সা.)-কে আমি জনৈক ব্যক্তির চালচলন নকল করে দেখালাম। তিনি বললেন, ‘আমাকে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হলেও কারো চালচলন নকল করা আমাকে আনন্দ দেয় না।’ আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! সাফিয়্যা তো বামন নারী’, এই বলে তিনি তা হাতের ইশারায় দেখালেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি এমন একটি কথার দ্বারা বিদ্রুপ করেছ, তা সমুদ্রের পানির সাথে মিশালেও তা উক্ত পানিকে দূষিত করে ফেলত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫০২) 

এখানেই শেষ নয়, মানুষকে তুচ্ছ করার এই প্রবণতা ঈমানকেও হুমকিতে ফেলার সম্ভাবনা রাখে। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সে-ই মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সমস্ত মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।’ (বুখারি, হাদিস: ১০)

তাই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার আশায়ও এ ধরনের কাজ করা উচিত নয়। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বিদ্রূপ একজনে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং বহু মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। একজন একটি ভিডিও বানায়, শতজন দেখে, হাজারজন হাসে, অনেকে তা অনুকরণ করে আবার ছড়ায়। গাণিতিক পদ্ধতিতে বাড়তে থাকা এই পাপে লিপ্ত প্রতিটি ব্যক্তির পাপের সমান ভাগ প্রথম ব্যক্তির ও কাঁধেও যাবে। যিনি সর্ব প্রথম হারাম কাজটির (মিম ছবি/ভিডিও ছড়িয়েছে) প্রচলন ঘটিয়েছে। হাদিসে আছে, ... আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করবে, সে তার অনুসরণ কারীদের সমপরিমাণ পাপের অধিকারী হবে, অথচ তাদের (অনুসরণ কারীদের) পাপের অংশ থেকে কোন কিছু কম করা হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬০৯)

নাউজুবিল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমন ঘৃণ্য অভ্যাসগুলো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।