শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীকে এফবিসিসিআইয়ের চিঠি

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ২৪ • 27 জানুয়ারী 2023, 12:14 দুপুর • 400 বার পঠিত
গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীকে এফবিসিসিআইয়ের চিঠি

গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
গত বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জসিম উদ্দিন লিখেছেন, ‘আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে দৃপ্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আপনার বিচক্ষণ পরিকল্পনা এবং আন্তরিক প্রয়াস আমাদের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুততম অগ্রসরমান অর্থনীতি। আপনার সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও সুষম বাস্তবায়নের ফলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। আপনার দিক-নির্দেশনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনা এবং আন্তরিক প্রয়াসে কোভিড পরবর্তী বিদ্যমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যখন আমরা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সে মুহূর্তে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি আমাদের অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’
‘আপনার ঘোষিত ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়ন, এসডিজি অর্জন ও ট্রিলিয়ন ডলার ইকনোমিতে পদার্পণ করতে আমাদের অধিকতর বিনিয়োগ ও টেকসই শিল্পায়নের বিকল্প নেই। চাহিদা অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি গ্যাস ক্রয় করা হলে উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার শর্তে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ক্যাপটিভের ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য প্রতি কিউবিক মিটার ১৬ টাকার স্থলে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে ক্যাপটিভ খাতে গ্যাসের মূল্য ৮৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৩০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের বর্তমান হার যথাক্রমে ১১.৯৮ টাকা, ১১.৭৮ টাকা ও ১০.৭৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে সব স্তরে একই হারে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৫.০২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৪ টাকা করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন মূল্য কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।’
জসিম উদ্দিন তার চিঠিতে বলেছেন, ‘কোভিড মহামারি ও ইউক্রেন সংকটের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণসহ সব খাতে ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি, সেই সঙ্গে সার্বিক পরিবহন ব্যয় এবং মুদ্রা বিনিময় হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনার খরচ অত্যধিক বেড়ে চলেছে। এতে শিল্প কারখানাগুলি সচল রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পখাতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যবসা পরিচালনার খরচ আরও বেড়ে যাবে। স্থানীয় শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে অত্যাধিক হারে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে এ খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জসিম উদ্দিন চিঠিতে লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের বিপক্ষে আমরা নই। সব ভোক্তার ওপর চাপ না দিয়ে জ্বালানি খাতের রাজস্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান মূল্য থেকে আমাদের প্রস্তাবিত ৫৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করে ক্যাপটিভ এবং অন্যান্য খাতে গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণের জন্য আপনার সদয় নির্দেশনা কামনা করছি, যা আগামী এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে পারে। সেই সঙ্গে উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয়ে আপনার নির্দেশনা কামনা করছি।’

এর আগে গত বুধবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। যা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে বৃহৎ শিল্পে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়। অর্থাৎ, দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।
শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (ক্যাপটিভ) জন্য ইউনিট প্রতি গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা (ইউনিট প্রতি) অপরিবর্তিত থাকছে। মাঝারি শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১০ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে।

চা–বাগানের ক্ষেত্রে দাম ১১ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত থাকছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকেরা ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি ইউনিটে দাম দেবেন ৩০ টাকা ৫০ পয়সা। আগে তারা দিচ্ছিলেন ২৬ টাকা ৬৪ পয়সা।