শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

এই প্রথম ভারতে ফাঁসি কার্যকর এক নারীর ৭১ বছর পর

অনলাইন নিউজ পোর্টাল • 26 এপ্রিল 2021, 08:34 সকাল • 210 বার পঠিত
এই প্রথম ভারতে ফাঁসি কার্যকর এক নারীর ৭১ বছর পর

ভারতে প্রায় সাত দশকের বেশি  প্রথম কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে। পরিবারের সাত সদস্যকে খুন করায় তার এ সাজা হয়।
 প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ১৩ বছর আগে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান উত্তর প্রদেশের বাওয়ানখেদি গ্রামের শবনম নামে এ গৃহবধূ। প্র্রেমে বাধা দেওয়ায় প্রেমিককে নিয়ে এই হত্যাযজ্ঞে মেতে ওইনের শবনম।

পুলিশ পরে এই খুনের অভিযোগে শবনম এবং তার প্রেমিক সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তারা দুজনই দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রাণদণ্ডের আদেশ দেয়।

শবনমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৫৫ সালের পর ভারতে এই প্রথম কোনো নারী ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলবে। যদিও শবনম কখনওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।

শবনমের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেন রাষ্ট্রপতি। যদিও শবনমের শিশু সন্তান রাষ্ট্রপতির কাছে মায়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শবনমের আইনজীবীরা তার ফাঁসি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তাদের যুক্তি, শবনম নিজেও ওই ঘটনার শিকার।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০০৮ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে। রায় হয় ২০১০ সালে।

লতিফ উল্লাহ খান নামে এক প্রতিবেশী সবার আগে শওকত আলীর দোতলা বাড়িতে পৌঁছান এবং শওকতের মৃতদেহের পাশে শবনমকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।

সে সময় ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, শওকতের মাথা ধড় থেকে প্রায় আলাদা হয়ে ছিল।

সেদিন শবনমের দুই ভাই, মা, ভাবি, ১৪ বছরের কাজিন, এমনকি তার ১০ মাসের ভাইপোর মৃতদেহও সেখানে পড়েছিল। বেশিরভাগ মৃতদেহের মাথা ছিল ঘাড় থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন।

হত্যাকাণ্ডের সময় শবনম ৮ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভে ছিল প্রেমিক সেলিমের সন্তান। ঘটনার আট মাস পর কারাগারেই ছেলের জন্ম দেন শবনম। বর্তমানে তার ছেলে বিট্টুর (ছদ্মনাম) বয়স ১২ বছর। বিট্টু তার পালক পিতার কাছে বড় হচ্ছে।

বিট্টু ভারতের প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দের কাছে তার মায়ের প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে আবেদন করবে বলে জানানো হয়েছে সিএনএন এর প্রতিবেদনে।