ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গেল দুই বছর রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত বন্ধ ছিল। এবার আবার শুরু হচ্ছে এই জামাত। এবারের ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে এই ঈদগাহ মাঠে।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়া পক্ষে থাকলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ মে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
আজ সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত আসে। সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।
গত দুই বছর ঈদগাহে জামাত হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।। এই সময়ে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এই বছর দেশে করোনার সংক্রমনের মাত্রা অনেক কমে গেছে। সবকিছু অনেক স্বাভাবিক এখন। এসব কারণে মুসল্লিরা এবার জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন। এর মধ্যে ঈদগাহ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুসলিম দেশের কূটনীতিকদের দাওয়াত দেবে। সরকারি, আধা-সরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘ঈদ মোবারক’ লেখা সম্বলিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের দিবাগত রাতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবন ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে।
ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধীকেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেইফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র, দুস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা হবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব শিশুপার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।