বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, হাসপাতালে ভর্তি ১০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার দাবি করলেও আহত ১০ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই সংগঠন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে ‘হিট’ (আঘাত) করেছে। আমরা দুই পক্ষকেই থামিয়েছি। থামাতে গিয়ে আমরাও আহত হয়েছি।”
আহতদের মধ্যে সাফওয়ান (২১), শিফাত (২৭), আল আমিন (২৫), হেলাল (২৬), রবিউল (২৩), মনিরুল ইসলাম (২৬), হাফিজ (২৩), আব্দুল্লাহ আল বাকি (২৪), হৃদয় (২৩) ও তরিকুল ইসলাম (২৪) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. সাইফ বলেন, “বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন; তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে ‘গুরুতর আহত কাউকে পায়নি’। কয়েকজন মাথায় আঘাত পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাদের সিটি স্ক্যান করতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বলতে পারবো, আঘাত গুরুতর কি-না।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম আজমাইন অভিযোগ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে ছাত্রশিবির ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
“এতে বাধা দিলে শিবিরের নেতা-কর্মীরা লাঠি ও রড দিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১১ জন নেতা-কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।”
একই অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান সিফাত বলেন, “কর্মসূচি চলাকালে বহিরাগতদের নিয়ে শিবির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাদের মিছিল করতে নিষেধ করা হয়। এরপর শিবিরের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী আহত হন।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবিরের কর্মী (সাথী) পরিচয় দেওয়া মো. আল আমিন অভিযোগ করেন, “চব্বিশের শহীদদের স্মরণে সাধারণ একটা মিছিল ছিল। মিছিলের শেষ মুহুর্তে ছাত্রদল হঠাৎ করে হামলা চালায়। এ সময় অনেকক্ষণ তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও কথা কাটাকাটি হয়।
“এ সময় ভিসি ও প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক এসে থামানোর চেষ্টা করেন। তখন পেছন দিক থেকে এসে শাখা শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামকে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমাকে মারধর করা হয়।”
তিনি বলেন, পরে তারা উপাচার্যের (ভিসি) কক্ষে যান। সেখান থেকে প্রক্টর তাদের মেডিকেলে নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় নিয়ে এলে, ‘প্রক্টরের সামনেই’ দ্বিতীয় দফায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
শিবিরের মিছিলে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ এবং হামলার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আল আমিন বলেন,“ ক্যাম্পাসের আশেপাশে আমাদের নেতা-কর্মীরা হয়তো মিছিলে ঢুকে পড়েছিল। অনেকে রাস্তার পাশে ছিল। তাদেরও ধরে এনে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের হামলায় তাদের ৯ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বেলাল হোসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”