বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের কষ্টে আমরা সমব্যথী।
আমরা জনদুর্ভোগ কমাতে চাই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছি।
এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির সমস্যাও কমে আসবে।তিনি বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘাটতি রয়েছে ১২ শতাংশ। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রয়োজন মেটাতে বছরে প্রায় ১১৫টি কার্গো জ্বালানি প্রয়োজন। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১০৫টি কার্গো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নেওয়া হতো। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সেই সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাতারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেদিন থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেদিন থেকেই সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি আরবের সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড ওয়েল) পরিশোধনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে। তখন মোট ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড ওয়েল শোধন করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে রুফটপ সোলার প্যানেলকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করতে পারলে সরকার তা ভালো দামে কিনে নেবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎস খুঁজছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সংকটের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।